দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক, শিক্ষক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা, হেনস্তা এবং হত্যার হুমকির তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি চিকিৎসকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।
মঙ্গলবার হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব দাবি তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৫ অক্টোবর) দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওটি কমপ্লেক্সে একদল দুষ্কৃতিকারী হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষ থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়।
এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. আব্দুস সালাম, মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. সারওয়ার মোরশেদ আলম এবং ইন্টার্ন কো-অর্ডিনেটর ডা. শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য চিকিৎসককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হেনস্তা ও অপমান করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও চিকিৎসকেরা অবস্থান নিলে, ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও চিকিৎসকদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও জোরালো অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগে গত রবিবার (৪ অক্টোবর) দুজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকও হেনস্তার শিকার হন। চিকিৎসকদের দাবি, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় নিয়মিতভাবেই চিকিৎসকেরা নানাভাবে হামলা, হেনস্তা ও হুমকির শিকার হয়ে আসছেন। এতে পুরো হাসপাতাল চত্বরে চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, চিকিৎসকদের চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে এর আগেও তাঁদের সাময়িকভাবে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম থেকে বিরত থেকে প্রতিবাদ জানাতে হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকারের দায়িত্বশীল মহলের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তারা পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে আসেন। তবে সাম্প্রতিক এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গুরুতর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সমাবেশ থেকে চিকিৎসক, শিক্ষক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রধানত দুটি দাবি উত্থাপন করা হয়:
১. গত ৫ অক্টোবরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ভুক্তভোগী চিকিৎসক, শিক্ষক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে হবে।
২. ভবিষ্যতে যেকোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে চিকিৎসক, শিক্ষক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা, হেনস্তা কিংবা হুমকি দেওয়ার অপচেষ্টা রোধে একটি বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

