অবৈধ বালু পাচার রোধে অভিযানে গিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা জাহান তন্বী হামলার শিকার হয়েছেন। এসময় একটি বালু বোঝাই ট্রলি আটক করলে বালুদস্যু সিন্ডিকেটের শতাধিক নারী-পুরুষ ওই কর্মকর্তাসহ ভ্রমমাণ আদালতের পুলিশ সদস্যসহ অন্যান্যদের প্রায় ৩০ মিনিট আটক করে রাখে। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ট্রলিটি থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়।
বিষয়টি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রমমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা জাহান তন্বী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বালুদস্যুরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। কিশোরগঞ্জের চাড়ালকাঁটা নদীসহ অবাধে নদ-নদী ও সরকারি বালুর স্তূপ থেকে লুট করছে বালু। এসব বালু পাচার রোধে ভ্রমমাণ আদালত নিয়মিত টহল দেয়।
ভ্রমমাণ আদালত সূত্র জানায়, বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকাল ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের ময়নাকুড়ি বাজারের পূর্বদিকে সিনহা কোম্পানী সংলগ্ন ডাংগাপাড়া গ্রামে চাড়ালকাঁটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু লুটের সময় ভ্রমমাণ আদালত অভিযান চালায়। এসময় বালু বোঝাই তিনটি ট্রলি আটকের চেষ্টা করলে ২ টি ট্রলির চালক ট্রলি নিয়ে দ্রুত সরে পড়ে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনিমা জামান তন্বী অপর ট্রলিটি আটকের জন্য সামনে দাঁড়ালে তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় বালুদস্যুরা।
এ সময় ট্রলিটি আটক করে পুলিশ। ট্রলি আটকের পরেই বালুদস্যু সিন্ডিকেটের শতাধিক নারী পুরুষ এসে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তনিমা জামান তন্বী, ভ্রমমাণ আদালতের পেসকার, ভ্রমমাণ আদালতে অংশ নেয়া পুলিশ সদস্যদের আটক করে রাখেন। তারা সরকারি গাড়ীর সামনে বসে অবস্থান নেয়। তাদের বালুর ট্রলি ছেড়ে না দেয়া পর্যন্ত তারা তাদেরকেও যেতে দিবেন না। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমানের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সেখানে গিয়ে এসিল্যান্ডসহ সকলকে উদ্ধার করে। আটক ট্রলিটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
আরও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই এলাকার নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু লুট করছে বাহাগিলি ইউনিয়নের ডাংগাপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে পারভেজ ও একই গ্রামের জাহেদুল ইসলামের ছেলে স্বপন বলে অভিযোগ উঠেছে। তারা বালু লুট চক্রের মূল হোতা।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রমমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা জামান তন্বী জানান, বালু পাচারের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ৩টি বালু বোঝাই ট্রলি দেখতে পাই। ২টি দ্রুত পালিয়ে গেলে অপরটি আটকের জন্য সামনে গেলে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতরা তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে আমাদের সরকারি গাড়ীর সামনে বালু সিন্ডিকেটের শতাধিক নারী পুরুষ অবস্থান নেয় এবং আমাদের আটক করে। এক পর্যায়ে তারা গাড়ীর সামনে বসে ও শুয়ে পড়ে। বালুর ট্রলি ছেড়ে না দেয়া পর্যন্ত তারা সরকারি গাড়িও ছাড়বেন না বলে হুমকি। প্রায় ৩০ মিনিট এভাবে আটকিয়ে রাখে। বিষয়টি ইউএনও স্যারকে অবগত করা হলে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আমাদের উদ্ধার করাসহ ট্রলিটি থানায় নিয়ে এসেছে।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর গফুর জানান, খবর পেয়ে ভ্রমমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পেসকার, অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশ সদস্যসহ অন্যান্যদের উদ্ধার পূর্বক আটক ট্রলিটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

