লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ৩৬ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। স্থানীয় শতাধিক মানুষ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রুখে দাঁড়ালে পিছু হটতে বাধ্য হয় ভারতীয় বিএসএফ।
বুধবার সকালে উপজেলার চার সীমান্ত দিয়ে ৩৬ জনকে পুশ ইন করার চেষ্টা করে। জগতবেড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আমাবাড়ি সীমান্তে ৮৬২ নম্বর পিলারের কাছাকাছি তিনজন মহিলা ও চারজন পুরুষ, একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড পঁচাভান্ডার সীমান্ত ৮৬৪ ও ৮৬৫ পিলারের মাঝামাঝি চারজন পুরুষ ও চারজন মহিলা, এদিকে জোংড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ধবলগুড়ি গুড়ালটারি সীমান্তে ৮৮০/১২ এস পিলারের মাঝে চারজন পুরুষ ও দু’জন মহিলা, ভারতের মহিসমুড়ি সালবাড়ি এলাকা, মহিসমুড়ি ক্যাম্প এলাকা থেকে তাদের ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে এবং বাউরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড হোসানাবাদ শফিরহাট সীমান্তে ৮৮৫/৯ এস পিলারের মাঝখানে চারজন মহিলা ও ১২ জন পুরুষ, সব মিলিয়ে ৪ সীমান্তে ৩৬ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় বিএসএফ।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের কাঁটাতার পার হয়ে ভারতীয় বিএসএফর তাদের জোর করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢোকানোর চেষ্টা করছে। এমন সময় এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে রুখে দেয়। পুশ-ইনের বিষয়টি খবর পেয়ে বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়ন দ্রুত সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নেয়। শতাধিক মানুষ ও বিজিবিরা সীমান্তে অবস্থান নিলে বিএসএফ পিছু হটে। কোনো সংঘর্ষ ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ভারতীয় যে নাগরিকদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে, তারা সকলে ভারতীয় আসাম থেকে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাটগ্রাম থানা ওসি মো মিজানুর রহমান বলেন, সীমান্তের পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। তবে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিজিবি ও প্রশাসন।
বিজিবি ৬১ ব্যাটালিয়ন সিইও শেখ মো. মুজাহিদ মাসুম বলেন, আমরা আগে থেকেই সতর্ক ছিলাম। স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে একটি বড় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনও কাটেনি।
এমএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

