বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হলো ভিন্নমাত্রা। স্থানীয়দের পাশাপাশি চীনের নাগরিকদের অংশগ্রহণে এবারের পহেলা বৈশাখ উৎসব হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও বর্ণিল।
মঙ্গলবার সকালে গোদাগাড়ী উপজেলা চত্বরে আয়োজিত নববর্ষ উদযাপনে অংশ নিতে উপস্থিত হন কয়েকজন চীনা নাগরিক। তারা পান্তা-ইলিশের স্বাদ গ্রহণের মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে নিজেদের পরিচিত করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয়রা জানান, এসব চীনা নাগরিক গোদাগাড়ীতে রাজশাহী ওয়াসার সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট প্রকল্পে কর্মরত। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চীনের হুনান কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি।
অনুষ্ঠানে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে এসেছিলেন প্রকল্পের ডেপুটি ম্যানেজার ইয়াসির আরাফাত। তিনি জানান, চীনা কর্মীরা শুরু থেকেই বাংলা নববর্ষ উদযাপন কাছ থেকে দেখার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। সেই আগ্রহ থেকেই তারা এ আয়োজনে অংশ নেন।
সকাল সোয়া ৯টার দিকে আনন্দ শোভাযাত্রা শুরুর আগেই তারা উৎসবের আবহে মিশে যান। কেউ আদিবাসীদের সঙ্গে নাচ উপভোগ করেন, কেউ ছবি তোলেন, আবার কেউ ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন। ঢাক-ঢোল ও একতারার তালে তালে তাদের উচ্ছ্বাস নজর কাড়ে উপস্থিত সবার।
ওয়াসা প্রকল্পের পরিচালক মি. জু বলেন, এই উৎসব অত্যন্ত প্রাণবন্ত। বাংলাদেশের মানুষ খুবই বন্ধুসুলভ ও অতিথিপরায়ণ।
তিনি বলেন, চীনেও নববর্ষ উদযাপন করা হয়, তবে বাঙালি বর্ষবরণের সঙ্গে তাদের উৎসবের পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে চীনে আতশবাজির ব্যবহার বেশি হলেও বাংলাদেশের নববর্ষে লোকজ সংস্কৃতির উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যায়।
গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদেশি নাগরিকদের এ আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুল ইসলাম বলেন, চীনা নাগরিকরা বাংলাদেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ থেকেই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।
তিনি জানান, আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে লোকশিল্প, সাংস্কৃতিক চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ তুলে ধরা হয়। শোভাযাত্রায় ছিল প্রতীকী মুখোশ, গ্রামীণ জীবনের নানা অনুষঙ্গ ও লোকজ উপকরণ। সবকিছুই উপভোগ করেন চীনা নাগরিকরা।
এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারী চীনা নাগরিকরা গত তিন বছর ধরে রাজশাহীতে কর্মরত। শুরু থেকেই বাংলা নববর্ষ নিয়ে তাদের কৌতূহল ছিল। এবার তারা সরাসরি পহেলা বৈশাখের উৎসব উপভোগ করার সুযোগ পান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদত রত্ন বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে এই উৎসবের মূল চেতনা অসাম্প্রদায়িকতা। বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণ আমাদের সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

