নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
‘শিশুদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি, গ্রাম থেকেই শুরু হোক বাল্যবিবাহমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন, শিশুশ্রম নয়, শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময়’—এমন বিভিন্ন স্লোগান নিয়ে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই আয়োজন করা হয়।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন্নাহার শাহজাদী ও শিশু চয়নিকার সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুরেশ বাটলেট, সিনিয়র ডিরেক্টর অপারেশন চন্দন জেড গমেজ, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: নীল রতন দেব, বড়ভিটা ইউপি চেয়ারম্যান ফজলার রহমান, সদর ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী গ্রেনেট বাবু, রণচণ্ডী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুকুল হোসেন, সিনিয়র ম্যানেজার অনুকূল চন্দ্র বর্মন, গ্রাম সমিতির সভাপতি আলতানুর হোসেন প্রমুখ।
এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, অভিভাবক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া শিশু জাকিয়া আক্তার তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে। অন্যদিকে, শিশুশ্রম ছেড়ে স্কুলে ফিরে আসা শিশু মোস্তাকিম তার জীবনের গল্প শোনায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা বলেন, "উপজেলাটি আমার, কিশোরগঞ্জটি আমার। আমরা সবাই চাই কিশোরগঞ্জ বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত হোক। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে এ উপজেলাকে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম মুক্ত করবো। কিশোরগঞ্জ হবে সামাজিক ব্যাধিমুক্ত মানবিক মডেল উপজেলা। তাই আমি উপজেলাটিকে শিশুশ্রম ও বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা করছি।" এ সময় উপস্থিত সবাই বাল্যবিবাহকে 'না' বলে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন এবং 'আর নয় শিশুশ্রম' লেখা প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলাটিকে শিশুশ্রমমুক্ত এবং এর ছয়টি ইউনিয়নকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাল্যবিবাহমুক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের মধ্যে একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

