ঈদের ছুটিতে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আলাই-বাঙালি নদীর ধারে সৌন্দর্য পিপাসুদের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের দিন থেকে তৃতীয় দিনও ভ্রমণ পিপাসুদের ভিড় কমেনি। সকাল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত নদী এলাকার দেওয়ানতলা ব্রিজ, মজিদের ঘাট, মহিমাগঞ্জ রেল স্টেশনের পাশের এলাকাসহ বাঙালি নদীর দুই তীরে নারী-পুরুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘদিন রাজধানীতে থাকেন সেলিম মিয়া। শহুরে পরিবেশ থেকে বের হতে পারেন না। ঈদের ছুটিতে গ্রামে এসে সবুজ শ্যামল আর নির্ভেজাল প্রকৃতি ছোঁয়া নিতে ছুটে এসেছেন বাঙালি নদীর পাড়ে। গ্রামের ছায়াঘেরা আর প্রকৃতির মেলবন্ধনে মিশে মিশে যাওয়া পথ মিলেছে বাঙালির কোলে। সেখানে চোখ ফেরালেই দেখা যাবে প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘেরা এক সুন্দর পরিসর। সবকিছুই খোলামেলা মনোমুগ্ধ পরিবেশ। এ যেন প্রকৃতির মাঝে এক অপরুপ সৌন্দার্যের হাতছানি। ঈদের পর গাইবান্ধার সাঘাটা ও পার্শ্ববর্তী মহিমাগঞ্জের আলাই বাঙালির সৌন্দার্য্যঘেরা এ প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগে ছুটছেন মানুষ। জেলার কোথাও ভালো লাগার তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র কিংবা স্পট না থাকায় মফস্বলের পাশাপাশি শহরের লোকজন ছুটছেন এখানে।

ইটপাথরের শহরে বসবাস করা কোমলমতি শিশুদের মানসিক বিকাশ ঘটাতে, চিরসবুজের অপুরূপ সৌন্দার্য্যের মাঝে, লুকিয়ে থাকা নির্ভেজাল শ্বাস নিতে, অভিভাবকরাও বিকেল হলেই সন্তানদের নিয়ে ছুটে আসেন এখানে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে পরিপূর্ণ রেললাইনের ধার দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার এগিয়ে গেলেই বাঙালি নদী। নদীর ওপর রেলসেতুর আশপাশে স্পারগুলোতেই সৌন্দার্য পিপাসুদের ভিড় এখন।
পুরো এলাকায় এখন প্রতিদিন দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতেই লোক সমাগমে ভরে যায়। স্থানীয়দের উদ্যোগে দর্শনার্থীদের বসে বিশ্রাম নেওয়া ও খাবার পানীর জন্য সারি সারি খড়ের মিনি রেস্টুরেন্ট আরো এক ধাপ বাড়িয়েছে সৌন্দর্য। ভ্রমণে আসা লোকজনের সুবিধার জন্য শেড নির্মাণ করা হয়েছে।
এলাকাটিকে আকর্ষণীয় করতে নানাভাবে স্থানীয় লোকজনরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। গতকাল মঙ্গলবার ওই এলাকায় ঘুরতে আসা রফিকুল ও আবির হোসেন নামের একজনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, আমরা বোনারপাড়া এলাকা থেকে বেড়াতে এসেছি। এখানকার পরিবেশ বেশ ভালোই লাগল।
একই কথা বললেন, বগুড়া থেকে ঘুরতে আসা শরিফুল ইসলাম। এ ব্যাপারে স্থানীয় কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খন্দকার জানান, জেলায় ভালো কোনো স্পট নেই। তাই ওই এলাকাটিতে প্রাকৃতিক সৌন্দার্য উপভোগ করছেন মানুষ।
সৌন্দর্য পিপাসু লোকজনের নিরাপত্তায় প্রশাসনের দৃষ্টি প্রয়োজন বলে জানালেন, মহিমাগঞ্জ এলাকার স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী মনজুর হাবিব মঞ্জু ও এবিএস লিটন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

