আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে। প্রার্থী, কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ব্যস্ততায় সরগরম ভোটের মাঠ। তবে নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিভিন্ন স্থানে নারীদের হেনস্থার অভিযোগ ওঠায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নারী কর্মীদের হিজাব খুলে নেওয়া ও অশালীন মন্তব্যের মতো ঘটনার খবর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ (কাউনিয়া, পীরগাছা) আসনের প্রার্থী আখতার হোসেন বলেন,
যারা নারীদের হেনস্থা করছে, তারা আওয়ামী লীগের ইতিহাসকেই রিপিট করছে।
বুধবার সকালে পীরগাছা উপজেলার তৈয়ব গ্রামে শাপলা কলি মার্কার উঠান বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, যারা নারীদের হেনস্থা করছেন, তারা আওয়ামী লীগের অতীতের জঘন্য ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করছেন। আমরা ভুলে যাইনি ২০১৮ সালে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে নৌকায় ভোট না দেওয়ার কারণে একজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। সেই বিভীষিকাময় ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা আর এই বাংলাদেশে দেখতে চাই না।
তিনি আরও বলেন, ভোটের কাজ করতে গিয়ে যারা নারীদের হেনস্থা করছে, তারা আসলে সেই একই সহিংস ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতির দিকেই দেশকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা সরকার ও প্রশাসনের কাছে উদাত্ত কণ্ঠে দাবি জানাই। যেখানেই এমন ঘটনা ঘটবে, যে দলেরই হোক, যত বড় নেতা বা কর্মীই হোক না কেন, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, নির্বাচনের শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের উদ্বেগের কথা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে আসছি। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা দেখছি, ভোটের প্রচারে অংশ নিতে বের হওয়া নারীরা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। এটি একদিকে মানুষের পোশাকের স্বাধীনতার ওপর আঘাত, অন্যদিকে ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোট চাইবার মৌলিক অধিকারকে খর্ব করার শামিল।
ঢাকা-৮ আসনে ধারাবাহিক হামলার প্রসঙ্গ টেনে আখতার হোসেন বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, ঢাকা-৮ আসনে নাছির উদ্দীন পাটোয়ারী ভাইয়ের ওপর বারবার হামলা চালানো হচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করেছি, একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষ থেকেই এসব হামলা হচ্ছে। সেখানে ছাত্রদলের কর্মীরা হামলায় জড়িত ছিল। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” নিয়ে যে আশঙ্কার কথা আমরা বলেছিলাম, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই আশঙ্কাকেই বাস্তব করে তুলছে। আমরা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যারা সুষ্ঠু ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করছে, যারা নারীদের হিজাব নিয়ে টানাহেঁচড়া করছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

