লালমনিরহাটের বিভিন্ন সীমান্তে পুশইন নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রোববার রাতের আঁধারে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর সীমান্তে মেইন পিলার ৮৫৪/১০-এস এলাকায় ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সদস্যরা কাঁটাতারের বেড়ার আলো বন্ধ করে দেয়। তবে বিজিবি ও সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএসএফের সেই চেষ্টা সফল হয়নি। পরে পুশইনে ব্যর্থ হয়ে ওই সীমান্তে বিএসএফ ককটেল বিস্ফোরণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
তিস্তা ব্যাটলিয়ন ৬১ বিজিবির সহকারী অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে লালমনিরহাটের বিভিন্ন স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় দফায় দফায় লোক জড়ো করার ঘটনা অব্যাহত রেখেছে বিএসএফ। বিশেষ করে রাতের আঁধারে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে বিজিবি ও সীমান্তবাসীদের তৎপরতা ও সতর্ক অবস্থানের কারণে বিএসএফের এই অপচেষ্টা বারবার ভেস্তে যাচ্ছে।
সরেজমিনে সীমান্ত এলাকার মানুষে সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিরাপত্তা জোরদারে তারাও বিজিবির পাশে দাঁড়িয়েছেন। রাতভর টর্চলাইট, বাঁশি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টা টহলে অংশ নিচ্ছেন তারা। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) দফায় দফায় পুশইন (অবৈধ অনুপ্রবেশ) করানোর অপচেষ্টা প্রতিহত করতে লালমনিরহাটের ১৪৮ কিলোমিটার সীমান্তে বিজিবি ও গ্রামবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে যৌথ টহল ও নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে।
আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের অধিবাসী বাদশা মিয়ার সঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ,সীমান্তজুড়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ধারাবাহিক পুশইনের অপচেষ্টা ও আগ্রাসী মনোভাবের কারণে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে তীব্র উত্তেজনা ও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রায়শই রাতের আঁধারে বা ভোরে বাংলাভাষী মানুষদের পুশইনের চেষ্টা চালাচ্ছে বিএসএফ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জিরো টলারেন্স নীতি । গ্রহণ করে গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে এসব অনুপ্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ।
কৃষকদের অভিযোগ, জমিতে কাজ করতে গেলে সব সময়ই আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফের তৎপরতা অতীতের যেকোনো রেকর্ড ভঙ্গ করেছে, তারা এখন সার্বক্ষণিক পুশইন করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এ কারণে সীমান্ত জুড়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
এদিকে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে তারা। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

