আ.লীগ নেতা নিতেন জয়ের বদলে জেল খাটছেন নিরপরাধ শহিদুল

উপজেলা প্রতিনিধি, খানসামা (দিনাজপুর)

আ.লীগ নেতা নিতেন জয়ের বদলে জেল খাটছেন নিরপরাধ শহিদুল
নিরাপরাধ শহিদুল

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব, দুর্নীতি ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও স্থানীয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতারা থেকে যাচ্ছেন আইনের বাইরে। এলাকায় প্রকাশ্যে শোডাউন, ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ন্ত্রণসহ নানা কর্মকাণ্ড চালালেও প্রশাসন নীরব। অথচ নিরীহ ও সাধারণ মানুষের উপর চলছে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির নতুন খেলা।

সম্প্রতি ছয়দিন আগে খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের শহিদুল ইসলামকে ঘিরে এমনই এক ঘটনা সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একজন সৎ ও নিরীহ সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত তার কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। অথচ সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আওয়ামী লীগ পরিচয়ে একটি পুরোনো রাজনৈতিক মামলায়।

বিজ্ঞাপন

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে খানসামা থানায় একটি মারামারি ও ভাঙচুরের মামলা হয়। মামলাটি করেছিলেন যুবদল নেতা রাশিদুজ্জামান স্মৃতি। সেই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামির তালিকায় শহিদুল ইসলামের নাম জুড়ে দেয়া হয়। অথচ মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ঐ সময় ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন নিতেন জয়। ২০২৩ এবং ২০২৪ সালেও তিনিই সভাপতি ছিলেন। অর্থাৎ, প্রকৃত সভাপতির নাম বাদ দিয়ে নিরীহ শহিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান, জিসান ও হাসানুর রহমান শাওন বলেন, ‘শহিদুল ভাই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ছিলেন না। তাঁকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই।’

শহিদুল ইসলামের ছেলে লিমন শাহ বলেন, ‘আমার আব্বু কোনোদিন আওয়ামী লীগ করেননি। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে, আমি পুরো খানসামায় মাথা নেড়া করে ঘুরব। আমার আব্বু শুধু সমাজসেবক এবং মেম্বার প্রার্থী ছিলেন, সেটাই তাঁর অপরাধ।’

স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতাদের দুর্নীতি, হত্যা ও দখলদারির মামলা থাকলেও তাঁরা দিব্যি প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। অথচ শহিদুল ইসলামের মতো নিরপরাধ মানুষ জেল খাটছেন। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত না করেই শুধু রাজনৈতিক ছক মেনে গ্রেপ্তার, এটাকে রাষ্ট্রের সুশাসনের চরম অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, যারা প্রকৃত অপরাধী, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। নিরপরাধ শহিদুল ইসলামের মুক্তি নিশ্চিত করা হোক এবং মিথ্যা মামলার অবসান ঘটানো হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজমুল হক বলেন, এজাহার নামীয় ও এর বাইরে যাকেই আমরা ধরছি, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই ধরছি।

‘শহিদুল ইসলামকে যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সেটি একটি পুরোনো রাজনৈতিক সহিংসতার মামলা। তাকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শহীদুল ইসলাম নিজেই চায়ের দোকানে নিজেকে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা বলেছেন আর সেখানে সিভিল পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছিল। উনার একাধিক কথার প্রেক্ষিতেই আটক করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন, তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন