নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনে তিতুমীর এক্সপ্রেস ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেস ট্রেনের আপ-ডাউন যাত্রাবিরতি এবং ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালুর দাবিতে রেলপথ অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী ও সাধারণ যাত্রীরা। টানা ৫ ঘণ্টা রেলপথ অবরুদ্ধ থাকার পর রেল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা দুই মাসের আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশন চত্বরে এ মানববন্ধন ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার প্রায় ২ হাজার মানুষ অংশ নেন।
রেলপথ অবরোধের কারণে চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী ‘রকেট মেইল’ ট্রেনটি চিলাহাটি স্টেশনে আটকে থাকে। অন্যদিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ‘রূপসা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটিকে ডোমার স্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়। একাধিক ট্রেনের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাছাড়া স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম দীর্ঘদিন অকার্যকর ও চালু না থাকায় সার্বিক যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পার্বতীপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হাসানের নেতৃত্বে রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসেন। এ সময় উত্থাপিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন তারা। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা দুই মাসের আল্টিমেটাম দিয়ে তাদের অবরোধ তুলে নেন। এ সময় ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ডোমার থানা পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।
অবরোধ প্রত্যাহারের পর দুপুরের দিকে নীলফামারী রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয় এবং বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়া ট্রেনগুলো নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

