সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্পে ৬৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

সাহাবাজ উদ্দিন সবুজ, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্পে ৬৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া

নীলফামারী সৈয়দপুরের বিহারি ক্যাম্পে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলেও কোটি টাকার বিল কে দেবে তার উত্তর মিলছে না। বছরের পর বছর জমে থাকা বকেয়া এখন পৌঁছেছে ৬৬ কোটি টাকায়। প্রতি মাসে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পত্র দেওয়া হলেও মিলছে না কোনো সমাধান। এ নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগে তৈরি হয়েছে জটিলতা।

জানা গেছে, সৈয়দপুরের ২৪টি বিহারি ক্যাম্পে সরকারিভাবে স্থাপন করা ২৪টি মিটার রয়েছে। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ কোটি টাকা। এছাড়া প্রতি মাসে সৈয়দপুরে ৫০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্যাম্পে সরকারি মিটার লাগানো আছে। এছাড়া সরাসরি লাইন থেকে সংযোগ নিয়েও বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই সংযোগ যাতে বিচ্ছিন্ন বা অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা না ঘটে । সেজন্য ২৪ ঘণ্টা চালানো হচ্ছে ফ্যান। শহরের হাতিখানা এলাকার ঘিঞ্জি বিহারি ক্যাম্পের গলিতে ঢুকতেই দেখা যায়, ছোট ছোট টিনের ঘর, ভেতরে ফ্যান ও বাল্ব চালু রয়েছে।

কারো কারো ঘরে চলছে এলইডি টিভি, ফ্রিজ। কিন্তু এই বিদ্যুৎ সংযোগের কোনো মিটার নেই। পাশের খুঁটি থেকে নেওয়া হয়েছে সরাসরি সংযোগ। একই চিত্র সৈয়দপুরের অন্যান্য বিহারি ক্যাম্পেও। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এক সময় এসব ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

নেসকো সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিমুল ইসলাম সেলিম বলেন, প্রতিটি ক্যাম্পে সরকারিভাবে একটি করে মিটার আছে। ক্যাম্পগুলোর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। ওই মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিল পরিশোধ করবে। যেহেতু ক্যাম্পের বাসিন্দারা এখন বাংলাদেশের নাগরিক, তাই তারা ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিলের দায়ভার আর নেবে না।

সৈয়দপুর ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজিদ ইকবাল বলেন, ‘আমরা সরকারের ফ্রি বিদ্যুৎ চাই না, বিদ্যুৎ বিল দিতে চাই। আমাদের ১১ দফা দাবি মেনে সম্মানজনক পুনর্বাসন করলে এই সমস্যার সমাধান হবে।’

মানবাধিকারকর্মী আশরাফুল হক বাবু জানান, সমস্যার মূল কারণ পরিকল্পনার অভাব। ক্যাম্পগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নগর কাঠামোর মধ্যে না আনায় বিদ্যুৎ সংযোগও অনানুষ্ঠানিক রয়ে গেছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, বাসিন্দারাও ঝুঁকির মধ্যে থাকছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন