আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সোনাভরি নদীর ওপর সেতুর দাবি রাজিবপুরবাসীর

আতাউর রহমান, রাজিবপুর (কুড়িগ্রাম)

সোনাভরি নদীর ওপর সেতুর দাবি রাজিবপুরবাসীর

রাজিবপুরে সোনাভরি নদীর ওপর সেতু হলে পাল্টে দিতে পারে চরের মানুষের কষ্টের জীবন। কর্মসংস্থানসহ যোগাযোগব্যবস্থার পরিবর্তনে জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হতে পারে চরাঞ্চলের মানুষের।

জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদে বিচ্ছিন্ন ভারতীয় সীমান্তঘেষা কুড়িগ্রাম জেলার ১১১ বর্গকিলোমিটারের ছোট্ট উপজেলা রাজিবপুর। রাজিবপুর সদর, কোদালকাটি ও মোহনগঞ্জ তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলা। উপজেলা সদর থেকে মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে যোগাযোগের সংযোগ সড়ক থাকলেও কোদালকাটি ইউনিয়ন পুরোটাই সোনাভরি নদীতে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কোদালকাটি ইউনিয়নে চরসাজাই, বদরপুর, আনন্দবাজার, পাখিউড়া, হাতিমারাসহ ছোট-বড় প্রায় ২৫টি এবং রৌমারী উপজেলা জাদুরচর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামসহ প্রায় ৩০টি গ্রাম রয়েছে। রয়েছে ২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুটি দাখিল মাদরাসা, চারটি ইবতেদায়ি মাদরাসা, কয়েকটি হাফিজিয়া মাদরাসাসহ বেশ কয়েকটি প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

চর এলাকায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য ধান, পাট, গম, ভুট্টা, বাদাম, বিভিন্ন প্রকার রবি ফসলসহ শাকসবজি দ্বারা ভরপুর, যা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে রাজিবপুর, কর্তিমারী, রৌমারীর বিভিন্ন হাট-বাজারসহ সারা দেশে বিক্রির জন্য পার করতে হয় সোনাভরি নদী। এছাড়া জীবন চালনার তাগিদে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, হাট-বাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনে এসব নিবৃত্ত চরবাসীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুগ যুগ ধরে পার হতে হচ্ছে সোনাভরি নদী।

একটি সেতুর অভাবে উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষের।

উপজেলা শহরের অদূরে সোনাভরির একটি পয়েন্টে পারাপারের জন্য ছিল একটি খেয়াঘাট, যা খাজার ঘাট নামে পরিচিত। মাত্র ৭০ মিটার প্রস্থের নদীটি অত্র এলাকার মানুষের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অনন্তকাল ধরে। একটি সেতু হলে, ঘুরতে পারে চরাঞ্চলীয়দের অর্থনীতির চাকা, বদলে যেতে পারে জীবন-বৈচিত্র্য।

এ বিষয়ে কোদালকাটি ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি খাজার ঘাটে একটি সেতুর । সবচেয়ে বড় কষ্ট হয় কোনো গর্ভবতী মা এবং মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে। একটি ব্রিজ হলে যাতায়াতের সমস্যা দূর হবে, আমার এলাকার মানুষ শান্তি পাবে।’

ভুক্তভোগী এলাকার আমিনুল মাস্টার, জয়নাল মাস্টারসহ অনেকেই জানান, ‘স্বাধীনতার প্রায় ৫০টি বছর অতিবাহিত হতে যাচ্ছে, আমরা স্বাধীনতা ভোগ করতে পাচ্ছি না। দেশের সবস্থানেই উন্নয়নের জোয়ার বইছে। কিন্তু এ এলাকায় উন্নয়নের ছোঁয়াও লাগেনি। নির্বাচন এলেই অত্র অঞ্চলের মানুষকে জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়নের নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিলেও, নির্বাচন শেষে তাদের মাঠে দেখা যায় না। চর এলাকা নিয়ে কেউ ভাবে না, মাথাও ঘামায় না।। দুঃখের বিষয় শুধু ব্রিজের দাবি করেই গেলাম কিন্তু বাস্তবায়ন পেলাম না।

বিগত সরকারের আমলে নদীর ওপরে একটি কাঠের ব্রিজ দিলেও তা নড়বড়ে হয়ে গেছে। এখন যেন কাঠের ব্রিজটি মরণফাঁদ। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় এখন ব্রিজের নিচ দিয়ে কষ্ট করে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে সর্বসাধারণ।

বর্ষা আসলে আবার বিপাকে পড়বে ওপাড়ের মানুষ। জনগণের দাবির মুখে খাজার ঘাটে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও কোনো কাজের কাজ হচ্ছে না। বর্তমান সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সোনাভরি নদীর ওপর খাজার ঘাটে একটি স্থায়ী পাকা সেতুর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে চর রাজিবপুর উপজেলা প্রকৌশলী সৌরভ কুমার সাহা বলেন, আমি প্রস্তাব দিয়েছি। তাছাড়া মতবিনিময় সভায় কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে রাজিবপুরের বালিয়ামারী জিনজিরাম নদীর ওপর ও খাজার ঘাট সোনাভরি নদীর ওপর দুটি সেতু আশু প্রয়োজন দাবি জানিয়েছি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন