লালমনিরহাটে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

লালমনিরহাটে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

লালমনিরহাটে স্ত্রীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করার দায়ে স্বামী মো. আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। আদালতের রায়ে আসামিকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে গলায় ফাঁসির রশি ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সদর থানার গোকুন্ডা ইউনিয়নের গোকুন্ডা দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে আতিকুল ইসলামের সাথে ঘটনার আনুমানিক দুই বছর আগে বিয়ে হয় মোছা. মিতু আক্তারের। তাদের ৫ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে মিতুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন আতিকুল।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের জেরে আতিকুল মিতুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরবর্তীতে কাজের উদ্দেশ্যে পাবনা যেতে চাইলে মিতু তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আতিকুল প্রথমে মিতুর মাথায় ও মুখে কিল-ঘুষি মারেন। পরে ঘরের উঠানে থাকা একটি শক্ত প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মিতুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারধর করেন। গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন মিতু আক্তার। হত্যাকাণ্ডের পরপরই আতিকুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকালে মিতুর শিশুকন্যা আতিকা আক্তারের কান্নাকাটি শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে বিছানায় মিতুর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে মিতুর বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ আতিকুলের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন বলেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা যাবে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আগামী ৭ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করার সুযোগ পাবেন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন