পিআইও মাইদুল-তপনকে ঘিরে অভিযোগ

গঙ্গাচড়ায় ভুয়া পূজামণ্ডপ দেখিয়ে জিআর চাল উত্তোলন

গঙ্গাচড়ায় ভুয়া পূজামণ্ডপ দেখিয়ে জিআর চাল উত্তোলন
পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী ও দুর্গা মন্দির নামে মাত্র। এখানে কোনো মন্দির নেই। ছবি: আমার দেশ

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নে তিনটি পূজামণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত না হলেও সেগুলোর নামে সরকারি জিআর চাল বরাদ্দ ও উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম ও পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায়ের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মন্দিরগুলোর সভাপতিদের দাবি, তাদের মন্দিরে পূজা না হলেও বরাদ্দের চাল উত্তোলন করা হয়েছে। এমনকি উত্তোলন করা চাল বিক্রি করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ১১ অক্টোবরের বরাদ্দ তালিকায় উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নে ২১টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে ৬০০ কেজি করে মোট ১২ হাজার ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দের তথ্য রয়েছে। তালিকায় পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দির এবং পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী ও দোন্দোরা সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের নাম রয়েছে। প্রতিটি মন্দিরের নামে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেখানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুটিমারী পশ্চিমপাড়া দুর্গা মন্দিরের সভাপতি স্বাধীন চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। আমি কোনো স্বাক্ষর করিনি। পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তপন চন্দ্র এসব কাজ করেছেন। পরে জানতে পেরেছি।’

পশ্চিম খাপড়িখাল সার্বজনীন কালী ও দুর্গা মন্দিরের সভাপতি পরিমল চন্দ্র রায় বলেন, ‘২০২৫ সাল থেকে এখানে কোনো পূজা উদ্‌যাপন করা হয়নি। এবারও হয়নি। কে বা কারা এসব কাজ করেছেন, তাদের শাস্তি চাই।’

সরকারি দপ্তরের নাগরিক সনদ অনুযায়ী, জিআর চাল বিতরণ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। ফলে পূজা অনুষ্ঠিত না হওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট মন্দিরের নামে চাল বরাদ্দ ও উত্তোলন করা হয়ে থাকলে, কোন নথির ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কারা চাল উত্তোলন করেছেন এবং বিতরণপ্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

পিআইও কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তা মাইদুল ইসলামকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা কোনো বিষয় না, এগুলো অটোমেটিক ঠিক হবে।’

পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার রায় বলেন, ‘এটা ভুল হয়েছে, আমরা ফেরত দেব।’

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমরা পর্যবেক্ষণ করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে পূজা উদ্‌যাপন কমিটিকে তলব করা হয়েছে। বরাদ্দ ও চাল উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন