আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে সমালোচনায় প্রশাসন

তারাগঞ্জে ভোট কর্মকর্তাদের টাকা কর্তন নিয়ে তীব্র বিতর্ক

উপজেলা প্রতিনিধি, তারাগঞ্জ (রংপুর)

তারাগঞ্জে ভোট কর্মকর্তাদের টাকা কর্তন নিয়ে তীব্র বিতর্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রংপুর–২ আসন-এ দায়িত্ব পালনকারী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কর্তন করা ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে তারাগঞ্জ উপজেলায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু হাই দাবি করেন, ইউএনওর নির্দেশে এবং উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শ্রী ঋষিকেশের পরামর্শ অনুযায়ী আয়কর খাতে এ টাকা কর্তন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ঋষিকেশ বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন, “কর্তনকৃত টাকার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার পরামর্শে টাকা কর্তন করা হয়নি। বিষয়টি আয়কর অফিসে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন।”

তবে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু হাই পুনরায় দাবি করেন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার পরামর্শেই টাকা কর্তন করা হয়েছে। এভাবে দুই কর্মকর্তার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে উপজেলা প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারাগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৪৩টি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী ৪৮৮ জন পোলিং অফিসার, ৪৩ জন প্রিজাইডিং অফিসার এবং ২৪৪ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা করে কর্তন করা হয়। এতে মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরের উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবু হাই দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এ টাকা কর্তন করেন। বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে এলে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে তড়িঘড়ি করে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক-এর তারাগঞ্জ শাখায় টাকা জমা দেওয়া হয়।

তবে কোন খাতে টাকা জমা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন কিংবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইউএনও মোনাব্বর হোসেন বলেন, “টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছ থেকে ব্যাংকের রিসিভ নিয়ে যান।”

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন উঠেছে— নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সম্মানীর অর্থ থেকে কী প্রক্রিয়ায় এবং কোন আইনি ভিত্তিতে এই টাকা কর্তন করা হলো? প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসায় বিতর্ক আরও গভীর হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...