যমুনার ভাঙনে আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

উপজেলা প্রতিনিধি, (বেড়া) পাবনা

যমুনার ভাঙনে আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ
ছবি: নদীভাঙনের ফলে কল্যাণপুরে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের কাছে চলে এসেছে যমুনা

একদিকে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে অন্যদিকে ভাঙনের মুখে পড়েছে পাবনার বেড়া উপজেলা দুই ইউনিয়নের অন্তত চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। হুমকির মুখে রয়েছে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রসহ মসজিদ, বসতভিটা, শত শত বিঘা ফসলি জমি। বিষয়টি নিয়ে ভাঙনকবলিত মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরান ভারেঙ্গা ইউনিয়নের চরকল্যাণপুর, চরসিংহাসন, বক্তারপুর, নেওলাইপাড়া গ্রামে গত একমাস ধরে নদীভাঙনে শত বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছে চর কল্যাণপুরে। নদীভাঙতে ভাঙতে ঐ গ্রামের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের খুব কাছে চলে আসায় উদ্বেগের কারণ হয়েছে। পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রেজাউল হোসেন বলেন, গত এক মাসে কল্যাণপুর চর এলাকায় প্রায় ১০০ বিঘা ফসলি জমি যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনকবলিত স্থান থেকে অল্প দূরেই বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের সাবমেরিন ক্যাবলের খুঁটি ও একটি মসজিদ রয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিজ্ঞাপন

কল্যাণপুর চরের বাসিন্দা তাইজল ইসলাম বলেন, ‘গত এক মাসে যমুনা নদীরভাঙনে আমার প্রায় চার বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর আগেও কয়েক বিঘা জমি ভাঙনের শিকার হয়েছে। এখন চাষাবাদ করার মতো কোনো জমি অবশিষ্ট নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে আমি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুলান্ট চাকমা বলেন, তিনি সম্প্রতি ভাঙনকবলিত চরকল্যাণপুর পরিদর্শন করেছেন। তিনি ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বেড়া শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীভাঙন এলাকাগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। অতিভাঙন চরকল্যাণপুরে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি ১২ হাজার বস্তা জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন