দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কাশিপুর মৌজায় আত্রাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের জ্ঞাতসারে মহামান্য হাইকোর্টে ১৪৬৮৯/২০২৫ নম্বর রিট মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও একটি প্রভাবশালী চক্র দিনরাত প্রকাশ্যে প্রস্তাবিত কাশিপুর বালুমহালে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনাটি ব্যাপক ছড়িয়ে পড়লে তথা প্রশাসনের ওপরমহলে জানাজানি হলে গতকাল ২৯ মার্চ রোববার বিকেলে ইউএনও মিজ সুমা খাতুন পুলিশ টিমসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে চাঁন মিয়ার জমিতে (বাগানে) স্তূপ করে রাখা অবৈধ বালু জব্দ করেন।
এ ঘটনায় বীরগঞ্জ থানায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী এবং মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুস সালাম বাদী হয়ে এজাহারে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও সাত-আটজনের বিরুদ্ধে ২১ নম্বর একটি মামলা করা হলেও মূল হোতাকে আইনের বাইরে রাখার অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, উচ্চ আদালতে মামলা চলমান সত্ত্বেও প্রশাসনের চোখের সামনেই প্রতিদিন নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে এবং তীরবর্তী কৃষিজমি ও বসতবাড়ির জন্য হুমকি তৈরি করছে এবং সরকারি রাজস্ব চুরি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানান, ‘আমরা বহুবার বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করে আসছি, কিন্তু কোনো স্থায়ী সমাধান পাইনি।
মামলা হলেও প্রকৃত দায়ীসহ এখনো অভিযুক্তরা কেউ ধরা পড়েনি।
জব্দকৃত আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ সিএফটি বালু ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান শাহীন চৌধুরীর জিম্মায় দে্য়ার হয়, এতে এলাকাবাসী অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের আদেশ দাতাই হচ্ছে বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন চৌধুরী।
জব্দকৃত বালি তাকে জিম্মা দিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল ও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হয়েছে।
সঠিকভাবে তদন্ত হলেই মুল রহস্য বেড়িয়ে আসবে, উত্তোলিত বালু চেয়ারম্যান তার ঠিকাদারি রাস্তার কাজে ব্যবহার ও বিক্রি করেছন অথচ মামলা হলো নিরীহ মানুষগুলোর নামে। স্থানীয়রা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে নদীর নাব্য কমে যাওয়া, তীর ভাঙন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে নিয়েছেন, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন, তবে স্থানীয়দের দাবি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এবং একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধিতে বৈধভাবে লিজ প্রদানের জন্য গণস্বাক্ষর যুক্ত আবেদন করা হয়েছে।
বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অপরাধীরা যত বড় শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

