কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের অন্তঃউপজেলা বদলির বিতর্কিত আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। উপজেলা ইউএনও এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ বিষয়ক কমিটির সভাপতি মাহমুদুল হাসান এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও কমিটির সদস্য সচিব আবু বকর সিদ্দীক স্থগিতকরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত বুধবার বিকেলে শিক্ষকদের বদলির আদেশ জারি করে ‘উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ বিষয়ক কমিটি’। এতে ১২ জন সহকারী শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
আদেশ জারির পরপরই অভিযোগ ওঠে—রাজনৈতিক চাপ ও অর্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে নীতিমালার তোয়াক্কা না করে প্রাপ্যতা নেই এমন ৮ জন শিক্ষককে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বদলির সুযোগ করে দিয়েছে কমিটি।
এ সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে গত বৃহস্পতিবার আমার দেশ পত্রিকায় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশ্যে আসার পরই নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কমিটি এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু বকর সিদ্দীক বলেন, বদলির আদেশ আপাতত স্থগিত রয়েছে। ইউএনও স্যার আমাকে সেভাবেই মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন। আমিও ব্যক্তিগতভাবে চেয়েছি এই বদলির আদেশটি বাতিল হোক। আগামী সোমবার কমিটি পুনরায় সভায় বসে বদলি আদেশটি সংশোধন করবে।
নীতিমালা লঙ্ঘন করে শিক্ষক বদলির অভিযোগ প্রসঙ্গে ক্ষোভ ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে এই শিক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, বড় ধরণের অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছে, তা আমি অস্বীকার করছি না। আমি সত্যিই অসহায়; বিভিন্ন দিক থেকে আসা চাপ নিতে পারছিলাম না। আমাকে উপর থেকে প্রস্তুতকৃত তালিকা দিয়ে কেবল স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল এবং আমি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছি। আমি নিজে আন্তরিকভাবে চাই এই বিতর্কিত আদেশ বাতিল হোক।
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, প্রকাশিত বদলির আদেশটি স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) পুনরায় কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সব ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

