আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করায় ওসির অপাসরণ চাইল বিএনপি

জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট

আ.লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করায় ওসির অপাসরণ চাইল বিএনপি
ছবি: আমার দেশ

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের ভায়রা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করায় ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপির একটি অংশ ওসির অপসরণ দাবি করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়কে উপজেলার তুষভান্ডার বাজারে বিক্ষোভ মিছিল মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন থেকে ওসিকে অপোরণের দাবি করে উপজেলা বিএনপির একটি অংশ।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি দুটি গ্রুপে বিভক্ত, যার একটি গ্রুপে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল। অপরটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জাহাঙ্গীর আলম। তারা দুজনে আপন চাচাত ভাই।

গত ৬ জুন রাতে রংপুর শহর থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আদিতমারী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ নাশকতার মামলার ২৪ নম্বর এজাহার নামীয় অভিযুক্ত আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম দুজনে আপন ভায়রা ভাই।

আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা মাত্রই ওসিকে ফোন করে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চান বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম। মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানালে ওসির ওপর ক্ষিপ্ত হন বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম। এটা নিয়ে ওসির সঙ্গে এ গ্রুপের দূরুত্ব তৈরি হয়।

একই নাশকতার মামলায় গত বুধবার আওয়ামী লীগের এক কর্মী রমজান আলীকে গ্রেপ্তার করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।

রমজানকে মৎসজীবী দলের গোড়ল ইউনিয়নের সহসাংগঠনিক সম্পাদক দাবি করে বিএনপির আহ্বায়ক গ্রুপ। তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা বিএনপির এক গ্রুপ। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম বলেন, সম্পদশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের গ্রেপ্তার না করে নাশকতার আমাদের মৎসজীবী দলের ইউনিয়ন শাখার নেতাকে গ্রেপ্তারকে আদালতে পাঠিয়ে ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক। মাদকের স্বর্গরাজ্য হিসেবে গড়ে তুলেছে এ উপজেলাকে। তাই ১২ ঘণ্টা র মধ্যে ওসিকে অপসরণ করতে হবে। নয়তো বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে এ নেতা বলেন, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টি সিনিয়র নেতাদের জানানো হয়নি। কর্মসূচি পালন শেষে তাদের অবগত করা হবে।

বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমন দাবি করে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় নানান আলোচনা-সমালোচনা। টিটুল ইসলাম নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের বলির পাঁঠা হচ্ছেন কালীগঞ্জের ওসি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন নেতা বলেন, মূলত আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করায় ওসির উপর ক্ষিপ্ত হন বিএনপির একটি অংশ। কারণ, এ অংশের যিনি নেতা তার আত্নীয় হন আজিজার। আজিজার আওয়ামী লীগের চিহ্নিত নেতা। তাই তার বিষয় না তুলে রমজানকে মৎজীবী নেতা বানিয়ে আন্দোলনের সুযোগ নেন গ্রুপটি।

উপজেলা মৎসজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক ইমান আলী জাদু বলেন, রমজান আলী নামে আমরা কাউকে চিনি না আর গোড়ল ইউনিয়ন শাখার সহ সাংগঠনিক পদ দাবি করা অনর্থক। মূলত ওই ইউনিয়নে কোনো কমিটিই দেওয়া হয়নি।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমান আমার আত্মীয়। তাকে গ্রেপ্তারের দিন থানায় ফোন করেছেন কি না এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি এড়িয়ে যান।

কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আজিজার রহমান নাশকতার মামলার এজাহার নামীয় আসামি, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফোন করে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চান বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম। গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা সম্ভবত তার নিকট আত্মীয়। এ কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হতে পারেন। যাহোক, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক আমরা দায়িত্ব পালন করছি। অপরাধী কার আত্মীয় সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন