কূপ পদ্ধতিতে মুরগি পালনে স্বাবলম্বী চরফ্যাশনের নারীরা

এম লোকমান হোসেন, চরফ্যাশন (ভোলা)

কূপ পদ্ধতিতে মুরগি পালনে স্বাবলম্বী চরফ্যাশনের নারীরা

খামারে লালিত-পালিত ব্রয়লার, লেয়ার ও পাকিস্তানি মুরগিতে এখন দেশের বাজারগুলো সয়লাব। দেশি মুরগি বাজার থেকে হারাতে বসেছে। এ অবস্থার পরিবর্তনে দেশি মুরগি পালন করে নিত্যদিনের অভাবকে বিদায় জানিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায আত্মপ্রত্যয়ী গ্রামীণ নারীরা। তারা কূপ মডেল পদ্ধতিতে দেশি মুরগি পালন (খাঁচা ও আবদ্ধ মডেল) করছেন।

এ পদ্ধতিতে অল্প জায়গা ও কম পুঁজিতে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় নারীরা ঘরে বসেই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন, বাড়ছে কর্মসংস্থান ।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার ওমরপুর গ্রামের নারী খামারি শিরিন বেগম বলেন, কূপ মডেল পদ্ধতিতে মুরগি পালন তুলনামূলকভাবে সহজ, রোগব্যাধির ঝুঁকিও কম। দেশীয় পদ্ধতিতে দেশি মুরগি পালন করতে আলাদা সময় ও খাদ্য সরবরাহ করতে হয় না। বাচ্চাগুলো তিন থেকে চার মাস বয়সে প্রজননক্ষম হয় এবং ডিম দেওয়া শুরু করে। প্রতিটি মুরগি বছরে ২০০ থেকে ২৫০টি ডিম দিয়ে থাকে। এছাড়া ওই ডিম ফোটানোর পর দুই মাস বয়সের একটি বাচ্চা ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। এতে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। পারিবারিক আয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।

জানা গেছে, চরফ্যাশনে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নির্বাচিত খামারিদের ১৫০টি দেশি মুরগির বাচ্চা, প্রয়োজনীয় টিকাদান এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করে।

আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দেশি মুরগি পালন সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন এবং উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম হচ্ছেন স্থানীয় নারী খামারিরা ।

এ ব্যাপারে উন্নয়ন সংস্থা এফডিএর পরিচালক কামাল উদ্দিন বলেন, চরফ্যাশনের খামারিদের বাড়ির আঙিনায় অল্প জায়গায় মুরগির জন্য ছোট ঘর বা খোঁপ তৈরি করে এবং দিনের বেলা ছেড়ে পালনের মাধ্যমে খামারিরা বিনা পুঁজিতে বা অল্প খরচে প্রচুর লাভবান হতে পারেন।

চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাজন আলী বলেন, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, নিযমিত টিকা এবং প্রশিক্ষণের ফলে খামারিরা সফল হচ্ছেন এবং ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন