আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সম্ভাব্য আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছেন রংপুর মহানগর জামায়াতের বর্তমান আমির ও রংপুর-৪ (কাউনিয়া–পীরগাছা) আসনের প্রার্থী এ টি এম আযম খান।
সম্প্রতি এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কোরবানির সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক ত্যাগের তুলনামূলক একটি মন্তব্য করেন। তার ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং অনেকেই বিষয়টিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর প্রেক্ষিতে শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে ভুল স্বীকার করে তিনি বলেন, তার বক্তব্যটি ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ‘স্লিপ অব টাং’।
বিবৃতিতে এ টি এম আযম খান বলেন, “সম্প্রতি পীরগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় বক্তব্য প্রদানকালে আমার একটি উক্তি নিয়ে অনেকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বক্তব্য দেওয়ার সময় দলের এক ঊর্ধ্বতন নেতার কথা উদ্ধৃত করতে গিয়ে আমি অসতর্ক শব্দচয়ন করেছি, যেখানে কুরবানি-সংক্রান্ত একটি অনভিপ্রেত তুলনা চলে আসে। এটি সম্পূর্ণ আমার ‘স্লিপ অব টাং’ থেকে হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)–এর কুরবানি ইসলামের এক অতুলনীয় ত্যাগ ও আদর্শের দৃষ্টান্ত। এর সঙ্গে তুলনামূলক কোনো বক্তব্য দেওয়া আমার উদ্দেশ্য ছিল না এবং তা আমার বিশ্বাস ও আকিদার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।’
ক্ষমাপ্রার্থনা ও সতর্কতার অঙ্গীকার করে বিতর্কিত ওই বক্তব্যের জন্য তিনি সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং বলেন, ‘আমার বক্তব্যে যদি কোনো ভাই-বোন বা শুভানুধ্যায়ী কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে সবার কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকব ইনশাআল্লাহ।
শেষে তিনি দোয়া কামনা করে বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সত্য ও সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন।’ এ ঘটনার পর রংপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

