আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রংপুরে মহিলা সমাবেশে এটিএম আজহারুল ইসলাম

ফ্যামিলি কার্ড নয়, যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে

রংপুর অফিস

ফ্যামিলি কার্ড নয়, যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির রংপুর ২ বদনগঞ্জ-তারাগঞ্জ আসনে এমপি পদ প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, শুধু ফ্যামিলি কার্ড আর কৃষি কার্ড নয়, যুবক-যুবতী ও কর্মহীন মহিলা এবং পুরুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোকজন মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কাউকে প্রলোভন দেখিয়ে, অর্থের বিনিময়ে কখনো কারো কাছ থেকে ভোট চায় না।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি ) দুপুরে বদরগঞ্জ উপজেলা মডেল হাই স্কুলের মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী মহিলা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

এটিএম আজহার বলেন, নারীরা এদেশের সম্পদ নারীরা ভালো থাকলে এদেশ ভালো থাকবে নারীদের উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়ন হবে নারীরা সর্বস্ব সম্মানিত ব্যক্তি। একজন নারীই পারে আদর্শ সন্তান দিতে। নারীদের কারণেই পুরুষরা সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ পায়। তাই নারীরা সর্বক্ষেত্রে সর্বমহলে সম্মানিত এবং শ্রদ্ধেয়। যারা নারীদের অবহেলা করে নারীদের অসম্মান করে নারীদের হেনস্তা করে নারীদের প্রতি খারাপ দৃষ্টিতে তাকায় তারা কখনোই নারীদের মঙ্গল কামনা করে না।

উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন একটি দল ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড এবং স্বাস্থ্য কার্ডের লোভ দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ মউকুফের কথা বলে এনজিও থেকে উত্তোলনকৃত টাকা ফেরতের কথা বলে মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ভোট চাচ্ছেন। যারা ভোটের জন্য বিভিন্ন প্রলোভন ও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ভোট চায়, তাহলে বুঝতে হবে তাদের উদ্দেশ্যে ভালো নয়। তারা ক্ষমতা এলে পূর্বের ফ্যাসিস্ট সরকারের পথ অনুসরণ করে দেশের সম্পদ লুট করে তাদের মত বেগম পাড়ায় গিয়ে আলিশান জীবন যাপন করবে। তাই কোন কার্ডের লোভে পড়ে বা তাদের প্রলোভনে আকৃষ্ট হয়ে তাদেরকে ভোট দেওয়া যাবে না।

সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মহিলাদের উদ্দেশ্যে এটিএম আজহার বলেন, আমাদের কাছে সকল ধর্মের মানুষই সমান। সে মহিলা হোক আর পুরুষ। জামায়াতের ইসলামীর লোকজন ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের সাথে বৈষম্য করে না। সবাইকে সমান চোখে দেখে। আজকে এখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর অনেক মহিলা এসেছেন। জামায়াতে ইসলামীর মহিলা সদস্যদের আচার-আচরণ দেখে তারা আমাদেরকে ভালোবেসে এখানে এসেছেন। ইসলাম এমন একটি ধর্ম যে ধর্মে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা বলেছে ইসলামে কোন হিংসা বিদ্বেষ নেই। অতি উৎসাহী কিছু মানুষ ইসলামের অপব্যাখ্যা করে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করে। তাদেরকে নিচু-মানের বলে আখ্যায়িত করে। আর আমরা কখনো কোন ধর্মের লোককে নিচু মনে করিনা আমরা সবাই সমান। এদেশে একজন মুসলমান মহিলার যেমন অধিকার রয়েছে অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মহিলার কেমন অধিকার রয়েছে। একজন মুসলমান মহিলার ভোট যেমন গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মহিলাদের ভোট তেমনি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদেশে সকল ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই আমরা সমান অধিকারের অধিকারী।এখানে বৈষম্যের কোন কিছু নেই।

তিনি, বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সাড়ে ১৫ বছর আলেম, ওলামা, সাধারণ মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।এক কথায় সারা দেশবাসী মজলুম ছিলেন। আর আমরাও মজলুম ছিলাম। এখনো যারা মজলুম, আমরা আশা করছি, তাদের পক্ষেই বাংলাদেশ থাকবে ইনশা আল্লাহ। আমরা দলীয় কোনো শাসন এ দেশে দেখতে চাচ্ছি না। আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাচ্ছি না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাচ্ছি।

এটিএম আজহার বলেন, আমরা দেশে কোন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি দখলবাজি করতে দেব না, আর ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাচ্ছি, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার জীবন, সম্পদ এবং ইজ্জতের নিরাপত্তা ভোগ করবে, ইনশাআল্লাহ। তাই আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এবং গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দেওয়া আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বদরগঞ্জ মডেল হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত মহিলা সমাবেশে উপজেলার ১০ ইউনিয়নের কয়েক হাজার মহিলা পাশাপাশি হিন্দু ধর্মাবলম্বী মহিলাদেরও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, নায়েবে আমির শাহ মো. রুস্তম আলী এবং সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...