গাইবান্ধায় ইমাম-ওলামা পরিষদের ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি’ স্থাপনের উদ্যোগ

উপজেলা প্রতিনিধি, ফুলছড়ি (গাইবান্ধা)

গাইবান্ধায় ইমাম-ওলামা পরিষদের ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি’ স্থাপনের উদ্যোগ

গাইবান্ধা শহরতলীতে ৫শ কোটি টাকার পরিত্যক্ত জমিতে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি (জামিয়া) স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ইমাম-ওলামা পরিষদ। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পরিষদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আবেদন সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলায় একটি আন্তর্জাতিক মানের ইসলামিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের তত্ত্বাবধানে একটি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি (জামিয়া) প্রতিষ্ঠা করা হবে। যেখানে উচ্চতর হাদীস গবেষণা, ইসলামী আইন (ফিকহ) গবেষণা, তাফসীর শিক্ষা ও গবেষণাসহ ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় উচ্চতর পাঠদান হবে।পাশাপাশি সমাজের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ ও স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র, একটি বৃহৎ ঈদগাহ মাঠ, তাবলিগী জোর, ইজতিমা এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি তাবলিগি মারকাজ এবং ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।

ইমাম ওলামা পরিষদ গাইবান্ধার সভাপতি মুফতি মাহমুদুল হাসান কাশেমী জানান, ইমাম ওলামা পরিষদ গাইবান্ধার নেতৃবৃন্দসহ জেলা শহরের আদর্শপাড়া এলাকার কয়েকশত মুসল্লি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, ঈদগাহ মাঠসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে গণ পিটিশনে স্বাক্ষর করেন। এই গণ পিটিশন আমরা ইমাম ওলামা পরিষদের নেতৃবৃন্দ ১৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দিয়েছি। তিনি আন্তরিকতার সাথে আমাদের আবেদনপত্র (গণ পিটিশন) গ্রহণ করে আমাদের আশ্বাস দিয়ে বলেন- ইসলামিক ইউনিভার্সিটির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এটা অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। আমি সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করবো।

উল্লেখ্য- গাইবান্ধা সদর থানার অন্তর্গত জেএল নং ৯৯ এর অধীনে গোবিন্দপুর মৌজাস্থ হলদিয়ার বিল নামক স্থানে মালিক বিহীন ৬০ বিঘা জমির মধ্যে হতে ২০ বিঘা ফাঁকা জমি প্রশাসনিক উদ্যোগে উদ্ধার করে ইসলামিক ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের জন্য গাইবান্ধা ইমাম-ওলামা পরিষদের অনুকূলে বরাদ্দ প্রদানের জন্য আবেদন করে।

সুত্র জানায়, গাইবান্ধা জেলা শহর তলির আদর্শপাড়া এলাকায় ৬০ বিঘা মালিক বিহীন পরিত্যক্ত জমি রয়েছে। যার বর্তমান মূল্য কমপক্ষে ৫’শ কোটি টাকা। বিষয়টি ২০০৯ সাল থেকে গত ১৭ বছরে বেশ কয়েক দফা বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। তৎকালীন সময়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্রিকা কাটিংসহ ফাইলপত্র তৎকালীন গাইবান্ধা সদরের এসিল্যান্ড অফিসে প্রেরণ করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ভুমি অফিস দীর্ঘ ১৭ বছরেও রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থাগ্রহণ করেনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন