বাঁশ কাঁধে নিয়ে শুরু, ২৫ বছরে কোহিনূর বেগম উচ্চ বিদ্যালয়

শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক এই নিভৃত পল্লীগ্রাম

শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক এই নিভৃত পল্লীগ্রাম

নড়বড়ে টিনশেডের একটি ছোট কক্ষ দিয়ে যাত্রা শুরু। বিদ্যালয়ের অফিস তৈরির জন্য এলাকাবাসীর কাছ থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজেদের কাঁধে করে তা নিয়ে আসার সেই দিনগুলো এখন শুধুই স্মৃতি। দীর্ঘ ২৫ বছরের পথচলায় সেই ছোট পরিসরের প্রতিষ্ঠানটি আজ নতুন অফিসসহ ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের পথে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি বিদ্যালয়ের নতুন অফিসে সহকর্মীদের নিয়ে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠার শুরুর দিনের নানা স্মৃতি মনে পড়ে যায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন প্রামাণীকের। তিনি স্মৃতিচারণ করে জানান, আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে একটি নড়বড়ে টিনশেডের কক্ষে বিদ্যালয়ের অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তখন প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহেও ছিল নানা সীমাবদ্ধতা।

বিদ্যালয়ের শুরুর দিনের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, অফিস তৈরির জন্য এলাকাবাসীর কাছ থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে শিক্ষক ও কর্মচারীরা নিজেদের কাঁধে করে তা বিদ্যালয়ে নিয়ে এসেছিলেন। সেই সময়ের প্রতিটি ঘটনা আজও হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে।

তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন বিরাহীমের মরহুম সিরাজুল (হেপাউ) চাচাকে। তার কাছ থেকে জোর করে তিনটি বড় বাঁশ নেওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সিরাজুল চাচা হাসিমুখে বাঁশগুলো দান করেছিলেন। বিদ্যালয়ের সূচনালগ্নে এভাবেই এলাকার অনেক মানুষের ছোট ছোট সহযোগিতা প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বড় অবদানের জন্য তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রতিষ্ঠাতা মরহুম এম এ কুদ্দুসকে। বিদ্যালয়ের জন্য তিনি বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিলেন। তার অবদানের কথা উল্লেখ করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

বিদ্যালয়ের জমি দাতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন প্রতিষ্ঠাতার সহধর্মিণী মোছা. কোহিনূর বেগম। তার নামেই প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়েছে কোহিনূর বেগম উচ্চ বিদ্যালয়। তার সুস্থতা ও নেক হায়াতের জন্যও দোয়া কামনা করা হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন
অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে ছায়ার মতো পাশে রয়েছেন প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতার বড় ছেলে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন। বর্তমানে তিনি বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে তার সহযোগিতার কথা উল্লেখ প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন তার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

এ ছাড়া বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও অগ্রযাত্রায় আরও অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের অবদানের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত প্রয়াত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এবং জীবিত সবার নেক হায়াত ও সুস্থ জীবন কামনা করে ওই তিনি বলেন, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এখনও সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, “সবাই দোয়া ও সহযোগিতা করবেন, কোহিনূর বেগম উচ্চ বিদ্যালয় যেন শিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে এ সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক এই নিভৃত পল্লীগ্রাম।”

দীর্ঘ ২৫ বছরের পথচলায় শিক্ষক, কর্মচারী, প্রতিষ্ঠাতা, জমিদাতা, সভাপতি, স্থানীয় বাসিন্দা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সম্মিলিত অবদানে বিদ্যালয়টি আজকের অবস্থানে এসেছে। ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন