‘জনগণের প্রয়োজনে জীবন দেব আমি, আবু সাঈদের মতো জীবন দেব’—এমন মন্তব্য করেছেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল। রংপুরে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যদের যথাযথ মর্যাদা না দেওয়া, বিভিন্ন কমিটিতে তাঁদের প্রতিনিধি না রাখা এবং সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। জনগণের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে আন্দোলনে নামারও হুঁশিয়ারি দেন এই জামায়াত নেতা।
রোববার রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, রাষ্ট্র নির্ধারিত ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। জেলার বিভিন্ন কমিটিতে এমপিদের প্রতিনিধি রাখারও দাবি জানান তিনি। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা উপেক্ষা করা হলে তাঁদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেও ডিলারশিপ পাননি। অথচ ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, গুদাম ও আর্থিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও দলীয় পরিচয়ের কারণে কেউ কেউ ডিলার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে তোষামোদ করার অভিযোগ তুলে বেলাল বলেন, জনগণের রায় ও ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার বুলেটের চেয়েও বড় জনগণ।’ জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করার জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সভায় রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারের অনুপস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেলাল। নগরীর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া শ্যামা সুন্দরী খাল সংস্কার, যানজট নিরসন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং ঢাকা কোচ স্ট্যান্ড শহরের বাইরে স্থানান্তরের বিষয়েও কথা বলেন তিনি।
আসন্ন দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য। কোনো মহল যেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
পরে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, সভায় আবেগের বশে অনেক কথা বলা হয়েছে। তবে জেলার সর্বোচ্চ এ ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় সবাইকে শব্দচয়নের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা উচিত। সরকারি কর্মকর্তা ও সভার সদস্যদের পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে কথা বলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনসহ জেলা ও মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


