দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল বাতিল এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন খনির আউটসোর্সিং কর্মচারীরা। দাবি আদায় না হলে খনির সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করাসহ খনি অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শনিবার দুপুর ১টায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) প্রধান ফটকের সামনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভুক্তভোগী ৮৭ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কর্মচারীরা জানান, তারা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই কয়লা খনিতে দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। খনির জমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে ২০০৯ সালের ১৫ মে বিসিএমসিএল কর্তৃপক্ষের একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ওই সমঝোতা স্মারকের ৮ নম্বর ধারায় ক্ষতিগ্রস্তদের কয়লা খনিতে চাকরির ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা শিথিল করে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। প্রথম থেকেই ক্ষতিগ্রস্তদের স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও, অদ্যাবধি তাদের আউটসোর্সিং কর্মচারী হিসেবে রেখে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত থেকে খনির কাজে যারা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, তাদের বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের লক্ষ্যে ২০০৯ সালের ১৮ জানুয়ারি একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই বিজ্ঞপ্তির অধীনে ২০১০ সালের ৩১ আগস্ট শুধু কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলেও, এক অজানা কারণে সাধারণ কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে চাকরি স্থায়ীকরণের ব্যাপারে ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কয়লা খনিতে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মচারীদের স্থায়ীকরণের সিদ্ধান্ত হয়। একই বছরের ২ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে একটি পত্রে সংশ্লিষ্ট খনি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করা হলেও কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি।
অবশেষে নিরুপায় হয়ে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মরত ৮৭ জন কর্মচারী চাকরি স্থায়ীকরণের লক্ষ্যে হাইকোর্টে উপযুক্ত দলিল ও প্রমাণাদিসহ একটি রিট পিটিশন (নম্বর: ১২৮৮/২০১৮) দায়ের করেন। উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক ও কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর হাইকোর্ট এক রায় প্রদান করেন। রায়ে ২০০৯ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও বিদ্যমান সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) অনুযায়ী কর্মচারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তিন মাসের মধ্যে স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্টের সেই রায় অমান্য করে খামখেয়ালিপনা শুরু করে এবং ৮৭ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী নিয়োগ দেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আউটসোর্সিং কর্মচারী ও শ্রমিক নেতা তাজমুল হক অভিযোগ করে বলেন, "কয়লা চুরির দায়ে যার চাকরি চলে গিয়েছিল, খনি কর্তৃপক্ষ মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাকেই আবার স্থায়ী নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করে দিয়েছে। কারণ মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (এইচআর) আগেই তাদের নিজস্ব প্রার্থীদের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেছিলেন।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, কারিগরি হেলপার, অ্যাটেনডেন্ট এবং অফিস সহকারী পদে রাতের আঁধারে সিবিএ নেতারা পরীক্ষার খাতা জালিয়াতি করে তাদের নিজস্ব প্রার্থীদের উত্তীর্ণ করিয়েছেন।
শ্রমিকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় পেয়েছি। কিন্তু কয়লা খনি কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দুর্নীতির কারণে আমাদের স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না।" সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে এই বিতর্কিত পরীক্ষা বাতিল করে আদালতের রায় অনুযায়ী তাদের চাকরি স্থায়ী করা না হলে অচিরেই বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং খনির যাবতীয় উৎপাদন ও কাজকর্ম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য শনিবার দুপুর ২টায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

