আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আনিছুল হক চৌধুরীর কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারে নেমেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক এমপি আনিসুল ইসলাম মণ্ডল।
শনিবার বিকেলে তিনি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়ায় গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার কবর জিয়ারত করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতা এবং জুলাই যোদ্ধারা এর তীব্র সমালোচনা করেছেন।
বিষ্ণুপুর এলাকার আলম মিয়া ও মনসুর আলী জানান, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আওয়ামী লীগ যেভাবে সাধারণ মানুষকে জ্বালিয়েছে পুড়িয়েছে অত্যাচার করেছে তার সব সমর্থন দিয়েছিল দোসর জাতীয় পার্টি। আর সেই স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টির প্রার্থী তার নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে ছাত্র-জনতার খুনিদের ভোটের আশায় আওয়ামী লীগ নেতার কবর জিয়ারত করেছেন। এই কবর জিয়ারত করার কারণে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর ব্যক্তি হিসেবে যে ইমেজটুকু ছিল সেটুকু আর থাকল না।
জুলাই যোদ্ধা সুমন ও ইমতিয়াজ ইমতি জানান, জাতীয় পার্টির সব কার্যক্রম বন্ধ ও তাদের বয়কটের আহ্বান করছি।
বদরগঞ্জের বিএনপি নেতা হাসান বলেন, আওয়ামী লীগের ভোটের আশায় দলটির নেতার কবর জিয়ারত করেছেন জাপার প্রার্থী। তবে আমি নিশ্চিত, স্বৈরাচারের দোসরকে কেউ ভোট দেবে না।
এনসিপি নেতা রমজান আলী ও ফাইজুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের এত অপরাধ জেনেও যে জাতীয় পার্টির লোকজন তাদের সাপোর্ট করছে তাদের ভোটের আশা করছে এ কারণে জাতীয় পার্টিকে চিরতরে নিষিদ্ধ করে নেতাকর্মীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
বদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও জামায়াত নেতা গোলজার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ যেমন কখনো ভালো ছিল না, জাতীয় পার্টিও কখনো ভালো হবে না। এখনই আওয়ামী লীগের মতো জাতীয় পার্টির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দলটিকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
আওয়ামী লীগ নেতার কবর জিয়ারতের বিষয়ে জানতে আনিসুল ইসলাম মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার দেহরক্ষী তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের নজরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, শনিবার বিকেলে আনিসুল ইসলাম মণ্ডল কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আনিছুল হকের কবর জিয়ারত করতে গিয়েছিলেন। আমরা কবর জিয়ারতের পর ওই এলাকার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলে ভোট চেয়েছি। কবর জিয়ারত করা দোষের কিছু নয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

