কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও চাষাবাদের পরিবেশ ভালো থাকায় বাদাম চাষ নিয়ে আশাবাদী স্থানীয় কৃষকরা। ফলন ভালো হলে বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের মুখে হাসি ফুটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের বালুমিশ্রিত ও দোআঁশ মাটি বাদাম চাষের জন্য উপযোগী। ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী চরাঞ্চলে বাদাম চাষ করে অনেক কৃষক জীবিকা নির্বাহ করেন। তুলনামূলক কম খরচে বাদাম চাষ করা যায় বলে দিন দিন এ ফসলের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
রাজিবপুর উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানান, এ বছর উপজেলার ৩ ইউনিয়নে বাদাম চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৮৬৭ হেক্টর। তবে এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৪৫২ হেক্টর জমিতে।
জাউনিয়ার চর পূর্ব জালচিরা পাড়ার কৃষক শফি জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি না হলে এবার ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। তবে উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাদামের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।
কোদালকাটি ইউনিয়নের সাজাই গ্রামের আমিনুর রহমান জানান, গতবারের চেয়ে আমি এবার এক একর বেশি চাষ করেছি। কারণ গেল বছর আমার খরচের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হয়েছে।
কৃষিবিদ রতন মিয়া বলেন, বাদাম চাষে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ এবং প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি ফসল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে কৃষকদের লাভের পরিমাণও বাড়বে।
চর রাজিবপুর কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে বাদাম চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ অঞ্চলে বাদামের উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে চর রাজিবপুর উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষি উপ সহকারী কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, রাজিবপুর যেহেতু চর এলাকা, বাদাম চাষের জন্যে উপযুক্ত মাটি ও পরিবেশ রয়েছে। এখনও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। সামনে সরকারি প্রণোদনা রয়েছে বিনামূল্যে বাদামের বীজ ও সার প্রদান করা হবে।
আমরা নিয়মিত কৃষকদের মাঠে যাচ্ছি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। কৃষক লাভবান হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

