রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিল, লুটপাট এবং সম্পদ দখলের উদ্দেশ্যেই ফখরুল আলম রতনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আব্দুল বাতেন। তার দাবি, নিহত রতন ছিলেন নিরীহ প্রকৃতির মানুষ এবং তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর একটি পক্ষ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিবারকে জুলুম-নির্যাতন ও লুটপাটের শিকার করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিচরণ লস্কর (কুঠিরপাড়) গ্রামে নিহত ফখরুল আলম রতনের বাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন কর্নেল আব্দুল বাতেন। এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান।
কর্নেল আব্দুল বাতেন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছেন। কোনো পরিবার একটি রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতে পারে কিংবা ভোট দিতে পারে, এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। এ কারণে কাউকে নির্যাতন বা হত্যা করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।
নিহত ফখরুল আলম রতনের সঙ্গে নিজের পারিবারিক ও পেশাগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নিহত রতন তার ছোট ভাইয়ের শ্যালক। এ ছাড়া পীরগাছায় তার নিজস্ব মাদ্রাসায় রতন অফিস সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আত্মীয়তার সম্পর্কের বাইরেও তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রতন ছিলেন অত্যন্ত ভালো ও নিরীহ প্রকৃতির মানুষ।
‘২০টি পরিবার লুটপাট ও নির্যাতনের শিকার’
কর্নেল বাতেন অভিযোগ করে বলেন, গত দুই বছরে শুধু রতনের পরিবার নয়, হরিচরণ লস্কর গ্রামে তাঁর জানা মতে আরও প্রায় ২০টি পরিবার লুটপাট, জুলুম-নির্যাতন ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এসব পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং কাউকে কাউকে এলাকায় বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থানীয়, উপজেলা ও জেলা নেতৃবৃন্দের প্রতি অনুরোধ জানাব—অপরাধীদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবেন না। যারা দলের নাম ব্যবহার করে অপরাধ করছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। দল থেকে বহিষ্কার করে আইনের আওতায় আনতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।’
হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধের চেয়ে ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা এলাকাভিত্তিক বিরোধ থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন আব্দুল বাতেন।
তিনি বলেন, দুই পাড়া বা দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধের জেরে কাউকে হত্যা করার কোনো আইনগত বা যুক্তিসংগত ভিত্তি নেই।
কাউকে অপরাধী মনে হলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলেও তার দায়ে পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে হত্যা করা যায় না। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রতন হত্যা: একজন গ্রেপ্তার, বাকিদের নিয়ে স্বজনদের অভিযোগ
গত ১৯ অক্টোবর রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিচরণ লস্কর গ্রামের কুঠিরপাড় এলাকায় নিজ ঘরের সামনে ফখরুল আলম রতনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় কুর্শা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মজনু মিয়ার নেতৃত্বে ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য হায়দার আলীসহ লুৎফর, রিজু, রিপন, মতিয়ার, মেহের, বাটুল ও খলিলুর অংশ নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্বজনদের অভিযোগ, এ ঘটনায় খলিলুর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেও বাকি অভিযুক্তরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল আব্দুল বাতেন হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

