গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া (হ্যান্ডকাপ) পরিহিত অবস্থায় থানায় নিয়ে আসার সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছিনিয়ে নেওয়া হাতকড়া উদ্ধারসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় বৈরাগীরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই এছাহাক আলী বাদী হয়ে পলাতক ওই আসামিসহ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০ জনের নাম উল্লেখ এবং ওই এলাকার অজ্ঞাতনামা আরো ৩০-৪০ জনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মাদক উদ্ধার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলসহ বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে থানা এলাকায় ডেভিল হান্ট ফেস-২ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৪ জানুয়ারি রোববার দিবাগত রাতে এসআই এছাহাক আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ শাখাহার ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ওই ইউনিয়নের খাড়িতা গ্রামে খাড়িতা নগরপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার পেছনে অবস্থান করছে। এ সময় আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে এসআইয়ের সঙ্গীয় কনস্টেবল তৌহিদুল ইসলাম আসামির হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে থানায় নিয়ে আসছিলেন। এ সময় ওই এলাকার অন্য আসামিরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে হাতে লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের গাড়ির গতি রোধ করে হামলা চালিয়ে কনস্টেবল তৌহিদুল ইসলামের বাম হাতে কামড় দিয়ে হাতকড়া পরিহিত গ্রেপ্তার আসামি সাইফুলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
এ সময় এসআই ইছাহাক আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ আসামিকে পুনরায় আটকের চেষ্টা করলে আসামিরা ইছাহাক আলীসহ সঙ্গীয় এএসআই রামফল রবিদাস ও কনস্টেবল তৌহিদুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে আসামি ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তাদের হামলায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হলে তাদের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বৈরাগীর হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই এছাহাক আলী বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের খাড়িতা গ্রামের তারাজুল ইসলামের ছেলে মাহাবুব ইসলাম (৩৮), বয়েজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুস ছোবহান (৩০) এবং আব্দুল মান্নানের ছেলে বিপুল মিয়াকে (২৯) গ্রেপ্তার করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হক আমার দেশকে বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহার নামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল আদালতের মাধ্যমে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া আসামি সাইফুল ইসলামসহ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

