আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

গঙ্গাচড়ার তিস্তা চরে বালু উত্তোলন, হুমকিতে বাঁধ

উপজেলা প্রতিনিধি, গঙ্গাচড়া (রংপুর)

গঙ্গাচড়ার তিস্তা চরে বালু উত্তোলন, হুমকিতে বাঁধ
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর তীররক্ষা বাঁধ কেটে বালু লুটপাট করছে বালুখেকোরা। আমার দেশ

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার দক্ষিণ কোলকোন্দ এলাকায় তিস্তা নদীর তীর রক্ষা গ্রোয়েন বাঁধ কেটে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন । এতে বাঁধটি এখন ধ্বংসের মুখে।

জানা গেছে , রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদীর চরাঞ্চল থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। এই বালু উত্তোলনে গড়ে উঠেছে একটি সিন্ডিকেট । অবৈধ এই চক্রের কারণে শুধু নদীর চর নয়, পুরো গ্রোয়েন বাঁধব্যবস্থাই ভেঙে পড়ার মুখে। গ্রোয়েন বাঁধ নদীর স্রোতকে তীর থেকে দূরে সরিয়ে মাঝ নদীর দিকে প্রবাহিত করে, যাতে তীর ভাঙন রোধ হয় এবং নদীর পলি জমে জমি শক্ত হয়। দক্ষিণ কোলকোন্দ এলাকায় এটি নির্মাণ করা হয়েছিল বসতবাড়ি, কৃষিজমি, স্কুল, রাস্তা ও অবকাঠামো রক্ষার জন্য। কিন্তু এখন সেই গ্রোয়েন বাঁধই বালু লুটের সুবিধাজনক উৎসে পরিণত হয়েছে। বাঁধ থাকায় এখানে নদীর স্রোত কম, পলি ও বালু জমে উঁচু চর তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিস্তা চরের জমির তথাকথিত মালিক ও দখলদাররা মাহিন্দ্রা ট্রাক্টরের মালিকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেযন। এরপর মাহিন্দ্রাচালকেরা নদীর চর থেকে দিনের পর দিন বালু বিক্রি করেন।

বিজ্ঞাপন

গঙ্গাচড়া মডেল থানার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোলকোন্দ গ্রোয়েন বাঁধসংলগ্ন তিস্তা নদীর চরে অবৈধ বালু উত্তোলনের সময় পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় বালুবোঝাই মাহিন্দ্রা আটক করতে গেলে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, যারা বাঁধ কেটে বালু উত্তোলন করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, এই গ্রোয়েন বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিস্তা নদীর প্রবাহের দিক বদলে যেতে পারে। এর প্রভাব শুধু দক্ষিণ কোলকোন্দ নয়, বিস্তীর্ণ এলাকা এমনকি রংপুর শহর পর্যন্ত পড়তে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, শুধু শ্রমিক বা চালক নন, চরের জমির মালিক, দখলদার, মাহিন্দ্রা ট্রাক্টরের মালিক ও চালক এ পুরো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রোয়েন বাঁধ অবিলম্বে সংস্কার না করলে আসন্ন বর্ষায় দক্ষিণ কোলকোন্দসহ বৃহত্তর রংপুরে ভয়াবহ নদীভাঙন ও মানবিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। 

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন