ভারতে পাথর ভাঙার কাজ ছেড়ে

দেশে ফিরে পেঁপে চাষে সফল জুয়েল

দেশে ফিরে পেঁপে চাষে সফল জুয়েল
পেঁপে চাষ। ছবি: আমার দেশ

কাজের সন্ধানে অবৈধ পথে ভারতে গিয়েছিলেন দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ছাতইল গ্রামের জুয়েল ইসলাম (২৮)। সেখানে প্রায় তিন বছর পাথর ভাঙার কঠিন কাজ করেছেন তিনি।

সেই অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে দেশে ফিরে কৃষিতে নিজের ভাগ্য গড়ার চেষ্টা করছেন জুয়েল। গ্রামের আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে লিজ নেওয়া ৭০ শতক জমিতে শুরু করেছেন পেঁপে চাষ। তাদের বাগানে এখন ৭০০টির বেশি পেঁপেগাছ। ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন তারা। বাগানে থাকা অবশিষ্ট পেঁপে বিক্রি করে আরও পাঁচ লাখ টাকার বেশি পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন

জুয়েল ইসলাম বোচাগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর ছাতইল ইউনিয়নের দক্ষিণ ছাতইল গ্রামের বাসিন্দা। তার সঙ্গে এ উদ্যোগে রয়েছেন একই গ্রামের মুসাদ্দেক ইসলাম (২১) ও মমিনুল ইসলাম (৩৮)। তারা দুজনই পেশায় রংমিস্ত্রি। তবে সারা বছর রঙের কাজ না থাকায় অনেক সময় তাদের কর্মহীন থাকতে হতো। এ অবস্থায় বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে গিয়ে তারা পেঁপে চাষে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তিনজন মিলে লিজ নেওয়া জমিতে পেঁপে চাষ শুরু করেন। কৃষিকাজের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করাই তাঁদের লক্ষ্য।

জুয়েল জানান, ২০১৯ সালের দিকে দেশে কাজের সুযোগ কম থাকায় তিনি অবৈধ পথে ভারতে যান। সেখানে পাথর ভাঙার কাজ করতেন। কঠোর পরিশ্রমের ওই কাজে জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে নানা কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। প্রায় তিন বছর পর দেশে ফিরে কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে গ্রামের দুইজনকে সঙ্গে নিয়ে সীমিত পুঁজি দিয়ে পেঁপে চাষ শুরু করেন।

তাঁদের বাগানে শাহী জাতের পেঁপে চাষ করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রাণীগঞ্জ থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেন তাঁরা। রোপণের প্রায় আট মাস পর গাছে ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে বাগানের বয়স প্রায় ১০ মাস। বাগান থেকে কাঁচা ও পাকা—দুই ধরনের পেঁপেই বিক্রি করছেন তাঁরা।

জুয়েলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭০ শতক জমিতে পেঁপে চাষে তাঁদের উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি করেছেন তারা। বাগানে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁপে রয়েছে। অবশিষ্ট পেঁপে বিক্রি করে আরও পাঁচ লাখ টাকার বেশি পাওয়ার আশা করছেন তারা। তবে চূড়ান্ত বিক্রির পরিমাণ নির্ভর করবে অবশিষ্ট ফলন ও বাজারদরের ওপর।

বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহা বলেন, পেঁপে একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ফসল। সঠিক জাত নির্বাচন, নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে পেঁপে চাষে ভালো ফলন ও আয় করা সম্ভব। পেঁপে কাঁচা ও পাকা—দুইভাবেই বিক্রি করা যায়। ফলে কৃষকেরা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বিক্রির সুযোগ পান। জুয়েল ইসলামের মতো তরুণেরা কৃষিতে উদ্যোগী হলে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদেরও কৃষিতে আগ্রহী করে তুলতে পারেন। কৃষি অফিস থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হবে।

জুয়েল ইসলাম বলেন, অবৈধ পথে অন্য দেশে না গিয়ে দেশে কাজ করে খাওয়া অনেক ভালো। শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাও উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। একা সম্ভব না হলে দুই-তিনজন মিলে উদ্যোগ নেওয়া যায়। পরিশ্রম করলে ভালো কিছু করা সম্ভব।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন