নাগেশ্বরীতে সুস্থ ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী সাজিয়ে সরকারি ভাতা প্রদান, তদন্তের দাবি

নাগেশ্বরীতে সুস্থ ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী সাজিয়ে সরকারি ভাতা প্রদান, তদন্তের দাবি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম (৩৫), হাফিজুল ইসলাম (৪২) ও আব্দুস ছামাদ (৫০) সুস্থ-সবল ও কর্মক্ষম ব্যক্তি। তিনজনেরই কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নেই। তারা অন্যদের মতোই কথা বলতে, শুনতে ও স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন। অথচ এই তিনজনই নিয়মিত পান প্রতিবন্ধী ভাতা। এদের কাউকে শ্রবণ প্রতিবন্ধী আবার কাউকে শারীরিক প্রতিবন্ধী সাজিয়ে কয়েক বছর ধরে সরকারি ভাতার অর্থ দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া প্রকৃত বিধবা ভাতা প্রত্যাশীদের বঞ্চিত করে অবিবাহিত নারীর নামেও বিধবা ভাতা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ভাতা কার্যক্রম তদন্তের জোর দাবি উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অনিয়মের সময় নাগেশ্বরী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে জামাল হোসেন দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্বকালীন ভাতা কার্যক্রমের তালিকা, যাচাই-বাছাই, প্রতিবন্ধিতা নিরূপণ, সুবর্ণ নাগরিক কার্ড প্রদান এবং ভাতার অর্থ উত্তোলনের বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হলে অনিয়মের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

অভিযোগের বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি।

অন্যান্য অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার কথা বলে তিন শতাধিক মানুষের কাছ থেকে সিম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও নগদ টাকা নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও টাকা দেওয়ার পরও কোনো ভাতা বা কার্ড পাননি। পরবর্তীতে তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, তাদের নামেই সরকারি ভাতা চালু রয়েছে।

শুধু রায়গঞ্জ ইউনিয়নই নয়, নাগেশ্বরী উপজেলার আরও বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকারি ভাতা কার্ড বিতরণে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের নামে চালু হওয়া ভাতার টাকা কারা উত্তোলন করেছেন, তা এখনো সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়নি। ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে অন্যায়ভাবে অন্যরা কীভাবে সরকারি ভাতার টাকা পেলেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি দুই শতাধিক ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর সংবলিত একটি লিখিত অভিযোগ নাগেশ্বরী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সুস্থ ও কর্মক্ষম ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় এবং অবিবাহিত নারীদের বিধবা ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি একটি পরিবারের পাঁচ সদস্যের কেউ ভাতা গ্রহণ না করলেও তাদের নামে প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতা চালু রাখার প্রমাণ মিলেছে।

সরেজমিনে কথা বলে ভিতরবন্দ ইউনিয়নের রফিকুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম ও আব্দুস ছামাদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া হাসনাবাদ ইউনিয়নের আনিসুর রহমানসহ আরও কয়েকজন অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড নিয়ে ভাতার টাকা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন