মাত্র ১ কিলোমিটার সড়ক। নির্মাণ কার্যাদেশ ২০২৩ সালে। চুক্তিমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। ১ অর্ধ বছর মেয়াদি প্রকল্প। অথচ কাজ শুরুর প্রায় ৩ বছর পার হলেও এখনও শেষ হয়নি। এ পরিস্থিতিতে জন দুর্ভোগ চরমে। গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ হাইস্কুল গেট থেকে সোনাইর খামার অভিমুখে সড়ক নির্মাণকাজের এহেন করুণ পরিণতি। এমন বাস্তবতায় সড়কটি নির্মাণকাজের সাব ঠিকাদার ফারুক ব্যাপারী বলেন, ‘কাজ বন্ধ আছে তাতে কী হয়েছে? ঢাকা থেকে টাইম এক্সটেনশন নিয়ে পরে করা হবে।’
এলজিইডি উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটির নির্মাণ প্রতিষ্ঠান কুড়িগ্রামের অনি ট্রেডার্স। কিন্তু নির্মাণকাজে মাঠে দেখা গেছে অন্য ঠিকাদারকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাব কন্ট্রাক্ট চুক্তিতে কাজটি করছেন নাগেশ্বরীর এসবি ইটভাটার মালিক ফারুক ব্যাপারী ও কুড়িগ্রামের আরিফ ঠিকাদার।
জানা গেছে, এটি প্রায় এক কোটি টাকা চুক্তিমূল্যের ১ অর্ধ বছর মেয়াদি প্রকল্প। গত ২০২৪ সালেই প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এ পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে পরপর দুইবার সময়সীমা বর্ধিতকরণ করা হয়েছে। সেই সময়সীমা শেষ হলেও বাকি কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। উপরন্তু ৫০ শতাংশ কাজ বাকি রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক নির্মাণকাজ বাবদ ৮০ শতাংশের বিল তুলে নিয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে কাজের মান নিয়েও। সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত হয়েছে নিম্ন মানের ইট ও খোয়া। বালুর পরিবর্তে ফেলা হয়েছে ইট ভাটার পঁচা রাবিশ। অনেক স্থানে ইটের খোয়া ফেলে শুধুমাত্র রোলার চালানো হয়েছে। এরপর প্রায় ১ বছর ধরে সড়কটি পড়ে আছে ওভাবেই। সড়কের এখানে-সেখানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সাইকেল রিকশা চলাচলে দূর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। আর হাট-বাজারে পণ্য আনা নেওয়ায় কৃষক ও পথচারী পড়েছেন মহা দুর্ভোগে। স্থানীয়রা জানান, মাত্র ১ কিলোমিটার এ সড়কের নির্মাণকাজ ঝুলে আছে তিন বছর ধরে। ফলে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রায়গঞ্জ ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটিতে ইটের খোয়ার উপর বালুর পরিবর্তে রাবিশ ফেলা হয়েছে। অনেক স্থানে উঁচু-নিচু রয়ে গেছে। কার্পেটিং না করায় বৃষ্টিতে সড়কের অনেক জায়গা ভেঙে পড়েছে। কোথাও কোথাও খোয়া উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্কুল মার্কেটের নগরবন্ধ ষ্টোর মালিক দানিশ বলেন, ‘রাস্তার এই করুণ দশায় দুর্ভোগে আছি। স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে এ নিয়ে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু কাজ হয়নি।
এ বিষয়ে এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী মামুনুর রহমান বলেন, "চার দিন হলো আমি এ উপজেলার প্রকৌশলী হিসেবে অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব পালন করছি। খোঁজ নিয়ে দেখব যদি নিয়মের ব্যতয় ঘটে থাকে তাহলে ঐ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
জেলা প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অনিয়ম পেলে চুক্তি বাতিল করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সাব কন্ট্রাক্ট দিয়ে কাজ করানোর বিষয়ে জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সাধন চন্দ্র'র মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

