প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর চর। নদীর বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরজুড়ে ফুটে থাকা ধবধবে সাদা কাশফুল শরতের সৌন্দর্যকে করেছে আরও মনোমুগ্ধকর। কাশফুলের এই মায়াবী সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়।
টুকুরিয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর চরে ‘জাতের ঘাট’ নামক স্থানে গেলেই চোখে পড়ে সারি সারি কাশফুল। শরতের মেঘমুক্ত আকাশের নিচে পড়ন্ত বিকেলের আলোয় সাদা কাশফুল আর সবুজ ঘাস মিলে যেন তৈরি হয়েছে প্রকৃতির এক অপূর্ব ক্যানভাস।
হালকা বাতাসে কাশফুলগুলো একসঙ্গে দুলতে থাকে। কখনো ঢেউয়ের মতো এক পাশ থেকে অন্য পাশে দুলে ওঠে সাদা কাশফুলের সারি। আবার বাতাস থেমে গেলে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে কাশফুল। সবুজ ঘাসের ভেতর থেকে মাথা উঁচু করে থাকা কাশফুলের নরম সাদা পালক সূর্যের আলোয় আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
দূর থেকে তাকালে মনে হয়, করতোয়া নদীর চরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে কেউ যেন সাদা চাদর বিছিয়ে দিয়েছে। নদীর পাড়ের বাতাস, সবুজ চর আর দিগন্তজোড়া সাদা কাশফুল মিলিয়ে সেখানে তৈরি হয়েছে শান্ত ও মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশ।
স্থানীয়রা জানান, করতোয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা চরের বিস্তীর্ণ মাঠে কোনো ধরনের পরিচর্যা ছাড়াই প্রতিবছর কাশফুল জন্মে। শরৎ এলেই ফুলে ফুলে ভরে ওঠে চর। বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে তখন প্রকৃতিপ্রেমীদের আনাগোনাও বেড়ে যায়।
কাশবনে ঘুরতে আসা মাহমুদুল হাসান বলেন, “কাশফুলের সমারোহে বিকেলের বাতাস যেন শীতের আগমনের বার্তা দিচ্ছে। শৈশবের স্মৃতিগুলোও মনে পড়ছে। এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।”
দর্শনার্থীদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে সেখানে বসেছে ছোট পরিসরের মেলা। রয়েছে মালাই চায়ের দোকানসহ কয়েকটি অস্থায়ী দোকান। বিকেলের দিকে কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা মানুষের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।
কেউ কাশফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ মোবাইল ফোনে ধারণ করছেন ভিডিও। আবার কেউ নদীর পাড়ে বসে উপভোগ করছেন শরতের নির্মল পরিবেশ। তবে পুরো আয়োজনের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বাতাসে দুলতে থাকা ধবধবে সাদা কাশফুল।
প্রকৃতির নিজস্ব সৌন্দর্যে গড়ে ওঠা এই কাশফুলের মাঠ এখন করতোয়া নদীর চরের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। শরতের বিকেলে দিগন্তজোড়া সাদা কাশফুলের দুলতে থাকা দৃশ্যই সেখানে আসা দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ। নদীর পাড়ের নির্মল পরিবেশ আর কাশফুলের মায়াবী সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই সেখানে বাড়ছে মানুষের আনাগোনা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

