ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটি করপোরেশন ১-৯ ওয়ার্ড) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা সরাসরি জনগণের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান, উন্নয়ন ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে তারা নির্বাচিত হলে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জনকল্যাণমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
গত শনিবার গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক কমিটির আয়োজনে ‘জনগণের মুখোমুখি’ শীর্ষক এ ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, তরুণ ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি। নির্বাচিত হলে ক্ষমতার অপব্যবহার নয়, জনগণের সেবাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রায়হান সিরাজী বলেন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা না হলে উন্নয়ন টেকসই হয় না। জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু বলেন, নৈতিকতা ও সুশাসনের ওপর ভিত্তি করেই রাষ্ট্র পরিচালিত হওয়া উচিত। এতে সাধারণ মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী আনাস বলেন, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখে এলাকার সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধান করাই আমার লক্ষ্য। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী আহসানুল আরেফিন বলেন, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়াই আমাদের রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রার্থীরা একটি লিখিত অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন। অঙ্গীকারে বলা হয়, নির্বাচিত হলে তারা এলাকায় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ পরিহার করে সব নাগরিকের জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে পরাজিত হলে গণরায় মেনে নেওয়া এবং বিজয়ী প্রার্থীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন তারা।
ব্যতিক্রমী এ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও গণতান্ত্রিক চর্চার দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রার্থীরা একে অপরের হাত ধরে ও আলিঙ্গনের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যা উপস্থিত জনগণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলে।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাধারণ মানুষও শপথ বাক্য পাঠ করেন। তারা বলেন, তারা যোগ্য ও সৎ প্রার্থীকে ভোট দেবেন এবং কোনো ধরনের কালো টাকার বিনিময়ে ভোট প্রদান করবেন না। সচেতন ভোটার হিসেবে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকারও করেন তারা।
উপজেলা সুজন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ নূরন নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা সুজনের সভাপতি অধ্যক্ষ ফকরুল আনাম বেঞ্জু, জেলা সুজনের সাধারণ সম্পাদক নাছিমা আমিন এবং গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আখের মিঞা। বক্তারা বলেন, জনগণের মুখোমুখি এমন আয়োজন জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সুজনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সাজ্জাদ স্বাধীন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন উপজেলা সুজনের সদস্য সুজন আহম্মেদ, খাদেমুল ইসলাম ইমন, ইয়ুথ প্রতিনিধি মেহজাবীন মৌ, দি হাঙ্গার প্রজেক্টের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর শামসুদ্দিনসহ সুজনের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক ও ইয়ুথ সদস্যরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

