সিলেটের ওসমানীনগরে জমি ও বসতবাড়ির মালিকানা নিয়ে দুই লন্ডন প্রবাসী ভাইয়ের বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। এ ঘটনায় বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে আদালতের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখার স্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও পূর্বের মতো বসবাস ও দখল অব্যাহত রাখার অভিযোগ উঠেছে। ফলে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন ও বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা বজায় রাখা নিয়ে স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আদালতের নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের চণ্ডিতিয়র (কাজীবাড়ি) গ্রামের মৃত মদরিস আলীর চার ছেলের মধ্যে দুই সৎ ভাই মারা গেছেন এবং আপন দুই ভাই—মো. মকবুল আলী ও মো. মোফাজ্জল আলী জীবিত রয়েছেন। উভয়েই লন্ডন প্রবাসী। দীর্ঘদিন ধরে তাদের পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি ও বসতবাড়ির বাটোয়ারা (বণ্টন) নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
লন্ডন প্রবাসী মো. মকবুল আলীর অভিযোগ, তিনি ও অন্য দুই ভাই বিদেশে থাকার সুযোগে ছোট ভাই মো. মোফাজ্জল আলী সম্পত্তি বণ্টন না করে এককভাবে ভোগদখল করছেন। বিরোধপূর্ণ জমিতে নির্মাণকাজের প্রতিবাদ করায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাবাস করানো হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
পরবর্তীকালে গত মার্চে সিলেটের দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মামলা (মামলা নম্বর: ৯৪/২০২৬) করেন মকবুল আলী। আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের যুগ্ম জেলা জজ (দ্বিতীয় আদালত) মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন। গত ১২ অক্টোবর আদালতের নির্দেশনার কপি বিবাদীপক্ষের কেয়ারটেকারের কাছে পৌঁছানো হয়।
তবে ১৩ অক্টোবর ওসমানীনগর থানা-পুলিশ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে ঘটনাস্থলে গেলে বিরোধপূর্ণ স্থানে মোফাজ্জল আলীর পক্ষের লোকজনের বসবাস ও দখলের চিত্র দেখতে পায়। আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সেখানে দখল অব্যাহত থাকায় বিষয়টি আদালতকে লিখিতভাবে জানানোর আইনি প্রস্তুতি নিচ্ছে বাদীপক্ষ।
সার্বিক বিষয়ে বাদী মো. মকবুল আলী বলেন, আমি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনার পরও যদি সেখানে দখল ও বসবাস বজায় থাকে, তবে সেই আদেশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আমি আমার ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে চাই।
অভিযোগ স্বীকার করে বিবাদী মো. মোফাজ্জল আলী বলেন, বাটোয়ারার পর আমি আমার নিজের সম্পত্তিতেই অবস্থান করছি। আমাকে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনায় ব্যর্থ হয়ে একটি চক্রের যোগসাজশে আমাকে দখলবাজ ও সন্ত্রাসী বানানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
আদালতের নির্দেশনার বিষয়ে ওসমানীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনার পর বিরোধপূর্ণ বাড়ি ও জমির রূপ পরিবর্তন বা নতুন করে ব্যবহারের সুযোগ নেই। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জায়গাটি যেভাবে আছে, সেভাবেই রাখতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

