সুনামগঞ্জে বিসিআইসির সার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এমপির ডিও লেটারের ভিত্তিতে বেশিরভাগ ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় বাদ পড়েছেন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও প্রকৃত সার ব্যবসায়ীরা।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী সার ডিলার নিয়োগে অভিজ্ঞতা, গোডাউন, আর্থিক সচ্ছলতা ও লাইসেন্সকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা থাকলেও এবার তা মানা হয়নি।
বাদ পড়া একাধিক প্রার্থী জানান, তারা সব কাগজপত্রসহ আবেদন করলেও কেন তাদের বাদ দেওয়া হলো, তার কোনো কারণ কর্তৃপক্ষ জানায়নি। তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, ব্যবসার অভিজ্ঞতা নেই এমন অনেক ব্যক্তি শুধু এমপির ডিও লেটারের জোরে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
একজন বঞ্চিত ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সারের ব্যবসা করি। আমার গোডাউন ও লাইসেন্স সব আছে; কিন্তু আমার আবেদন বাতিল করা হয়েছে। অথচ যার সারের দোকানই নেই, সে ডিলার হয়েছে ডিও লেটার দিয়ে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কৃষি অফিসের কর্মকর্তা বলেন, এমপির ডিও লেটারে সার ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন বেশি। এছাড়া একাধিক ডিও লেটার যেখানে পাওয়া গেছে, সেখানে যাচাই-বাছাই করে তালিকা পাঠানো হয়েছে।
স্বচ্ছতার স্বার্থে বাদ পড়া প্রার্থীদের বাদ পড়ার কারণ প্রকাশ এবং ডিও লেটারে নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের তালিকা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় জেলার কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, অব্যবসায়ীদের হাতে ডিলারশিপ গেলে সারের কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি বাড়বে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান বলেন, উপজেলা কমিটি যাচাই-বাছাই করে তিনটি নাম জেলা কমিটির কাছে পাঠিয়েছে। জেলা কমিটি উপজেলা কমিটির তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। জেলায় মোট ৫০৭টি আবেদন পড়েছে। তাহিরপুর উপজেলা ছাড়া বাকি ১১ উপজেলায় ৮১ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কমিটির উপদেষ্টা হলেন স্থানীয় এমপি। তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই তালিকা পাঠানো হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

