আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

গণভোট নিয়ে সারা দেশে চলছে প্রচার

আমার দেশ ডেস্ক

গণভোট নিয়ে সারা দেশে চলছে প্রচার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারা দেশে প্রচারণা চালানো হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যর ভিত্তিতে দেখুন বিস্তারিত।

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহন এবং হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে ফরিদপুরে প্রচারণা চালিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি’র যুব সংগঠন জাতীয় যুব শক্তি, ফরিদপুর জেলা শাখা। মঙ্গলবার দুপুরে সংগঠনটির ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক জুনায়েদ মাহমুদ এর নেতৃত্বে দলের অন্যান্য সদস্যরা ফরিদপুর শহরের হাসিবুল হাসান লাবলু সড়কে অবস্থিত জুলাই স্মৃতি ফলক থেকে তাদের এই কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে তারা শহরের ইমাম উদ্দিন চত্তর, জনতা ব্যাংকের মোড়, ফলপট্টি, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন অলিতে গলিতে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালায়। প্রচারণার অংশ হিসেবে তারা সর্বসাধারণের মাঝে সচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরণ করেন।

বিজ্ঞাপন

এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যুব শক্তি, ফরিদপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব সাইম হোসেন, মুখ্য সংগঠক মো. রাকিবুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক মো. সোহেল সরদার, যুগ্ন সদস্য সচিব মহিউদ্দিন খলিফা রিফাত, এনামুল হক দুলাল ও সায়েম ইসলাম সহ অনেকে।

তারা বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত হয়ে উপস্থিত নানা শ্রেনী পেশার মানুষকে জুলাই সনদের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করেন।

জাতীয় যুব শক্তি ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক জোনায়েদ মাহমুদ বলেন, ২৪ পরবর্তী যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়নে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা জরুরী। আর সে লক্ষ্যে গণভোটে অংশ নিয়ে হ্যাঁ ভোটকে জয়যুক্ত করতে হবে। তিনি জানান, সর্বত্রই মানুষের ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। মানুষ পরিবর্তন চায়, পুরোনো সিস্টেম ভাংতে চায়। এসময় তিনি দাবী করেন, যারা নতুন করে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে চায়, তারাই কেবল “না” ভোটে পক্ষে থাকবে।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, পটুয়াখালীতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গণভোট ২০২৬ বিষয়ক প্রচারণা সংক্রান্ত রোড শোর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন ফেস্টুন উড়িয়ে বর্ণিল রোডশো-এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চেধৗুরী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, সিভিল সার্জন মো. খালেদুর রহমান মিয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ উল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক হাওলাদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহসীন উদ্দিন, জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মো. ওহিদুজ্জামান মুন্সি সহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চেধৗুরী বলেন,'আগামী ১২ ফেব্রম্নয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে উৎসবমূখর করতে এবং গনভোটে সচেতনতা বৃদ্ধিতে রোড শোর আয়োজন'। তিনি আরো বলেন, 'নির্বাচনের দিন ভোটারদের দুইটি ব্যালট পেপারে ভোট দিতে হবে। একটি ব্যালটে ভোটারগণ প্রার্থী নির্বাচন করবেন, অন্যটিতে গণভোটে অংশগ্রহণ করবেন। গণভোটে 'হ্যঁা' ভোট দিলে জুলাই সনদসহ বিভিন্ন সুবিধা দ্রম্নত সময়ে নিশ্চিত হবে'।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে রোড-শোর কনভয় শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। সাধারণ জনগণ যাতে গণভোট সম্পর্কে সচেতন হতে পারে, সেই লক্ষ্যে এই কনভয়ের মাধ্যমে জেলাব্যাপী প্রচারণা চালানো হবে।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য জুলাই সনদের ওপর গণভোটকে সামনে রেখে মাগুরায় নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও ভোটগ্রহণ প্রস্তুতি নিশ্চিতে কঠোর মাঠপর্যায়ের তদারকি শুরু হয়েছে। মাগুরা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ পর্যায়ক্রমে জেলার ৩০১টি ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন এবং সকল কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন কর্মসূচি ইতিমধ্যে ৭০% বাস্তবায়ন করেছেন। সে হিসেবে মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রীপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মোট ৫৮টি ভোটকেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি।

তিনি পরিদর্শনকালে সাফ জানিয়ে দেন—নির্বাচনে কোনো ধরনের শৈথিল্য, অনিয়ম কিংবা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হবে না। টানা এই পরিদর্শনে ৫৮টি কেন্দ্রের ৩১৬টি ভোটকক্ষ ঘুরে দেখেন তিনি।

প্রশাসন ও জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা বলয়, নারী ও প্রতিবন্ধীবান্ধব বুথ, বিদ্যুৎ ও ব্যাকআপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ভোটগ্রহণ সংশ্লিষ্ট জনবলের চূড়ান্তকরণসহ সব প্রস্তুতি যথাসময়ে সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীপুর উপজেলার আট ইউনিয়নে মোট ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ৬২৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৮,৮১০ জন এবং নারী ভোটার ৭৮,৮১৪ জন। নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পৃথক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক প্রবেশ ও বাহির পথ, ভোটার লাইনের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা অবস্থান, সিসি ক্যামেরা মনিটরিং, সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টসহ বিভিন্ন বিষয় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদ্দেশে তিনি বলেন—“দায়িত্ব পালনে গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন,—“জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে—এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল দায়িত্ব। কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। জেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে মাঠে রয়েছে।”

পরিদর্শন কালে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান,—“পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য বাহিনী সমন্বয়ে স্তরভিত্তিক নিরাপত্তা বলয় করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে প্রস্তুত রয়েছি।”

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফারাজী বেনজীর আহম্মেদ বলেন,—“ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই আমাদের লক্ষ্য।”

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রামের পটিয়ায় গণভোটের প্রচারণায় মাইকিং করা হচ্ছে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পেরৗসভার ৯টি ওয়ার্ডে। উপজেলা তথ্য অফিস এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মতবিনিময় ও বিভিন্ন সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করে গণভোট নিয়ে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনের দিনই গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ নিবার্চনের ভোট নিয়ে সচেতনা থাকলেও গণভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসাহ কম দেখা গেছে।

উপজেলা তথ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গণভোটের পেক্ষ মাইকিং করে প্রচারণা শুরু করা হয়েছে। মাইকিং ছাড়াও সচেতনতা বৃদ্ধির লেক্ষ্য ছোট ছোট নাটিকা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হচ্ছে।

এছাড়াও উঠান বৈঠক, মতবিনিময় সভারও আয়োজন করা হচ্ছে। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১২ জানুয়ারি সোমবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হল রুমে গণভোট নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লেক্ষ্য এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গণভোট সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

পটিয়া সরকারী কলেজের শিক্ষাথীর্ আবুল হাছনাত জোবাইর জানান, গণভোটের প্রচারণা শুধুমাত্র মাইকিং ও বৈঠকের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ না রেখে সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করা উচিত। বিগম সময়ে অনেক বার গণভোট হলেও এবারই সংসদ নিবার্চনের একই দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় উৎসাহ কম।

পটিয়া উপজেলা নিবার্হী কর্মকতার্ ফারহানুর রহমান জানান, তথ্য অফিসের মাধ্যমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গণভোটের জন্য সচেতনতা সৃষ্টির লেক্ষ্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়াও নানা শ্রেণী পেশার মানুষদের নিয়ে উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। গণভোটের ধারণা দেয়ার জন্য ভিডিও চিত্রও দেখানো হচ্ছে জনবহুল এলাকায়। নিবার্চনের সার্বিক পরিবেশ এখনো পর্যন্ত স্বাভাবিক আছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা প্রতিনিধি (নলডাঙ্গা) নাটোর জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া—গণভোট। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের ভোটারদের বড় একটি অংশ এখনো জানেন না—গণভোট কী, কেন এটি হচ্ছে কিংবা সেখানে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের অর্থ কী।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে “দেশের চাবি আপনার হাতে” স্লোগান সামনে রেখে ডিজিটাল বিলবোর্ড, প্রচার গাড়ি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রচার কার্যক্রম মূলত জেলা শহর ও অনলাইনকেন্দ্রিক হওয়ায় গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নলডাঙ্গার বিভিন্ন গ্রামে অনেক ভোটারই জানেন না ‘হ্যাঁ-না’ ভোট কী, কেন এই ভোট দিতে হবে কিংবা গণভোটের মাধ্যমে কী বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশেষ করে বয়স্ক, শ্রমজীবী এবং প্রযুক্তি-নির্ভর নন—এমন ভোটারদের মধ্যে এই অজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও গ্রাম পর্যায়ে এ নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা বা দৃশ্যমান প্রচারণা নেই। অনেক ভোটারই জানেন না যে নির্বাচনের দিন সংসদ নির্বাচনের ব্যালটের পাশাপাশি আলাদা একটি গণভোটের ব্যালট দেওয়া হবে। ফলে ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

সেনভাগ লক্ষীকোল গ্রামের অটোচালক মোঃ নূর মোহাম্মদ বলেন, এমপি ভোট দিতে যাব—এটা জানি। কিন্তু গণভোট কী, সেখানে কী দিতে হবে—আমি কিছুই জানি না। কেউ আমাকে এ বিষয়ে বুঝিয়ে বলেনি।

শাখারীপাড়া গ্রামের দিনমজুর মোঃ মাহাবুব জানান, আমি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করি না। গ্রামে কোনো মাইকিং বা সভাও চোখে পড়েনি। তাই ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের কথা প্রথমবার শুনলাম।

পাটুল গ্রামের কৃষক মো. মোস্তফা বলেন, তিনি সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে জানেন এবং আগেও ভোট দিয়েছেন। তবে গণভোট কী—এ বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই।

শ্রী প্রদীপ কুমার জানান, ভোটের গাড়ি এসেছিল। আমি আগে বুঝতাম না হ্যাঁ-না ভোট কী, তবে এখন বুঝি এবং আমি হ্যাঁ ভোটে ভোট দিবো।

ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. রাজিব হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান বা এমপি নির্বাচন মানুষ সহজেই বুঝতে পারে। কিন্তু গণভোটের বিষয়টি এখনো গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে অস্পষ্ট। তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারণা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

পিপরুল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোছা. আইমন বিবি বলেন, গণভোটের মতো বিষয় নির্বাচন সঙ্গে একসঙ্গে হওয়া ভালো উদ্যোগ। তবে সময়মতো সঠিক তথ্য পেলে মানুষ আরও দায়িত্বশীলভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

উপজেলার বাসিন্দা ও নাটোর সিটি কলেজের প্রভাষক মো. আলী আল মাসুদ (মিলন) বলেন, গ্রামের মানুষ যদি সহজ ভাষায় বুঝতে পারে কেন গণভোট হচ্ছে এবং ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের অর্থ কী, তাহলে তারা সচেতনভাবেই সিদ্ধান্ত নেবে। স্কুল, মসজিদ কিংবা উঠান বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি বোঝানো গেলে গণভোটে অংশগ্রহণ আরও অর্থবহ হবে।

সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল হক জিয়া বলেন, গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে মাঠপর্যায়ে সরাসরি প্রচারণা, উঠান বৈঠক, মাইকিং ও ভোটার শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। তা না হলে বড় একটি অংশ এর গুরুত্ব না বুঝেই ভোট দিতে যাবে।

এ বিষয়ে জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, তথ্য অফিসের পক্ষ থেকে জেলা ও উপজেলা সদরের পাশাপাশি গ্রামীণ হাটবাজার ও প্রত্যন্ত এলাকায় মাইকিংসহ প্রচার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কার্যক্রম আরও বাড়াতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল এমরান খাঁন দৈনিক আমার দেশকে জানান, গণভোটে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচারণা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ১০ হাজার হ্যান্ডবিল তৈরি করে বিতরণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে ব্যানার টানানো হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বাজারে ভিডিও চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবার এবং সার ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে গণভোটের তথ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রচারণায় জনগণকে জানানো হচ্ছে—সম্মত হলে ‘হ্যাঁ’ এবং অসম্মত হলে ‘না’ ভোট প্রদান করতে হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে গ্রামভিত্তিক গণভোট সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করে মাঠপর্যায়ে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এই গুরুত্বপূর্ণ গণভোট অংশগ্রহণহীন ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ইতিহাসে স্থান নিতে পারে।

কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি জানান, ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করার লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের নিয়ে এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মকবুল হোসেন। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও সচিবদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ওয়ার্ডভিত্তিক উঠান বৈঠক আয়োজনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। সভায় কাঠালিয়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, সচিব ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‎রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)প্রতিনিধি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় বর্ণাঢ্য প্রচারণামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

‎র‍্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। এ সময় নির্বাচন ও গণভোটে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও স্লোগান প্রদর্শন করা হয়।

‎র‍্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউসার। এ ছাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।

‎র‍্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউসার বলেন,“নির্বাচন ও গণভোট একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ভোটারদের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের কর্মসূচি অত্যন্ত জরুরি। জনসচেতনতা বাড়লে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও গণভোট সম্ভব হবে।”

‎আয়োজকরা জানান, ভোটারদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন করার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যায়ক্রমে আরও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে নাগরিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিক্ষক, এনজিও প্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সুধীজনরা অংশ নেন।

সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্যারিস্টার সজিব আহমেদ–এর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইদুল ইসলাম–এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ শরিফ উদ্দীন ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা। এছাড়া সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মেরাজুল ইসলাম এবং শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাছির আহমদসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের মতামত, আর সেই মতামত প্রকাশের প্রধান মাধ্যম ভোটাধিকার। “দেশের চাবি আপনার হাতে”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাগরিকদের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি বলে তারা উল্লেখ করেন। সঠিক তথ্য জানা, গুজব এড়িয়ে চলা এবং দায়িত্বশীলভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়া সম্ভব বলেও মত দেন বক্তারা।

সভায় গণভোটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে শক্তিশালী করার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলম হোসেন বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। গুজব ও অপপ্রচার প্রতিহত করতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের সহিংসতা, ভয়ভীতি বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে মঙ্গলবার সোনারগাঁয়ে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাইরুজ তাসমীন, শাহিনা ইসলাম চৌধুরী, সোনারগাঁ থানার ওসি মুহিববুল্লাহসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ভোটারদের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণ তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন। তারা আরও বলেন, গণভোট একটি সরাসরি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। যেখানে জনগণ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত প্রকাশের সুযোগ পান। এ কারণে গণভোটের উদ্দেশ্য, পদ্ধতি ও গুরুত্ব সম্পর্কে সকল ভোটারের পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

উপজেলা প্রতিনিধি, সৈয়দপুর (নীলফামারী) জানান, নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হলেও নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গনভোটের ধারণা নেই অধিকাংশ ভোটারদের। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিন ‘গণভোট’ অনুষ্ঠিত হবে। নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনে গণভোট নিয়ে প্রচারণা না থাকায় অধিকাংশ ভোটারই জানেন না ‘হ্যাঁ-না’ ভোট কী এবং কেন এই ভোট দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ স্লোগানকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণভোটের বিষয়ে ডিজিটাল বিলবোর্ড ও প্রচার গাড়ির মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই কার্যক্রম মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেন্দ্রিক। ফলে মাঠ পর্যায়ের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বয়স্ক ও শ্রমজীবী ভোটাররা এ বিষয়ে কোনো ধারণা পাচ্ছেন না।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা থাকলেও গণভোট নিয়ে জনমনে কোনো ধারণা নেই। কী বিষয়ে আর কেন গণভোট নেওয়া হবে, কয়টি প্রশ্নের উপর ভিত্তি করে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট হবে তা সিংহভাগ মানুষ জানেনই না।

আতিয়ার কলোনী এলাকার পান বিক্রেতা জসিম বলেন, “এমপি ভোটের কথা শুনছি, কিন্তু গণভোট কী বা কেন হবে, তা কেউ আমাদের বলেনি। দোকানে অনেকে ভোটের কথা বললেও গণভোট নিয়ে কাউকে কিছু বলতে শুনি না।”

কামারপুকুর ইউনিয়নের অটোচালক ময়নুল ও ঢেলাপীর হাট এলাকার মুদি ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম একই কথা জানান। তাদের মতে, এর আগে সংসদ নির্বাচনে ভোট দিলেও ব্যালটের পাশাপাশি আলাদা একটি ‘হ্যাঁ-না’ ব্যালট দেওয়া হবে—এমন তথ্য তাদের কাছে পৌঁছায়নি। বা এটা কী আমরা কিছুই জানি না।

এছাড়া শহরের ২২টি উর্দুভাষী ক্যাম্প যেখানে রয়েছে ৪২ হাজার ভোটার। সেসব ক্যাম্প ঘুরে দেখা গেছে গণভোট বা ‘হ্যাঁ-না’ কি তা তারা জানেন না। তাদের বোঝানো হয়নি যে এটা কিসের জন্য নেওয়া হচ্ছে বা কিভাবে দিতে হবে।

হাতিখানা ক্যাম্পের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী রাজা জানান, ক্যাম্পের অধিকাংশ ভোটব্যাংক এই উর্দুভাষী ক্যাম্প ভোটারা। যদি তারা গণভোট সম্পর্কে উদাসীন থাকে। বা তাদের যদি না শেখানো বা বোঝানো হয় তাহলে এটা ব্যর্থ হবে।

বিষয়টি নিয়ে এক কলেজ শিক্ষক বলেন, “চেয়ারম্যান বা এমপি নির্বাচন মানুষ সহজে বুঝলেও গণভোটের বিষয়টি গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে এখনো অস্পষ্ট। এ বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে কোনো প্রচার চোখে পড়ছে না।” গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। সময়মতো ব্যাপক প্রচারণা চালানো না হলে সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত হতে পারেন। সংসদ নির্বাচনের উন্মাদনার মধ্যে গণভোটের বিষয়টি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

এ বিষয়ে উপজেলার পাশাপাশি গ্রামীণ হাটবাজারে মাইকিং করে, উঠান বৈঠক করে বা অন্যান্য পদ্ধতি অবলম্বণ করে হলেও গণভোট কি, কেন নেওয়া হচ্ছে তার ধারণা সাধারণ ভোটারদের দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সুধী সমাজ।

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। আর মাত্র ২৯ দিন পরেই ভোট। সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা থাকলেও গণভোট নিয়ে তেমন প্রচার প্রচারণা নেই যশোরের চৌগাছা উপজেলায়। সংস্কারের পক্ষে কথা বলতে দেখা গেলেও গণভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো কোনো প্রচারণা চালাচ্ছেনা।

গণভোটের প্রচারে অন্তর্বর্তীকালিন সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে। হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে প্রচারপত্র বিলি করা, উঠান বৈঠক করার মতো কাজ করবেন সরকার। এছাড়া ব্যানার, বিলবোর্ড, লিফলেট ও ফেস্টুন টানানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু চৌগাছা উপজেলা প্রশাসনের সেসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কোনো ভূমিকা চোখে পড়েনি। শহর কেন্দ্রিক দুই একটা বিলবোর্ড এবং পৌর প্রশাসকের পক্ষে কিছু লিফলেট বিতরণ করা হলেও প্রচারে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি।

অবশ্য চৌগাছা প্রেসক্লাবের সামনে একদিন ভোটের গাড়ি সুপার ক্যারাভান দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে আগে থেকে প্রচার-প্রচারণা ছিল না। অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকে জানতেনও না। সাধারন মানুষের কাছে এটি কেবল ভিডিও দেখানোর গাড়ি ছিল।

সরকার গণভোটের প্রচারে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে বলছে। সেজন্য তৃণমূলের মানুষের মধ্যে সরাসরি গণভোটের প্রচার করতে মসজিদের ইমাম ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে। এসকল পদক্ষেপের কোনোটিই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছেনা। এছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে কোন প্রচার নেই।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে শপথ নেয় অন্তর্বর্তীকালিন সরকার। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে গত অক্টোবরে তৈরি করা হয় জুলাই জাতীয় সনদ। এই সনদে থাকা সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে হবে গণভোট।

প্রেসক্লাব চৌগাছার সহ-সভাপতি রহিদুল খান বলেন, ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব সম্পর্কে বেশির ভাগ মানুষের ধারণা নেই। ভোটারদের সচেতন করতে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার চালানো প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও চৌগাছায় গণভোট নিয়ে সেভাবে প্রচার হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হবে ২১ জানুয়ারির পর। এর আগে সংসদ নির্বাচনের প্রচারে বাধা থাকলেও গণভোটের প্রচারে বাধা নেই। তবু রাজনৈতিক দলগুলোকে সেভাবে গণভোট নিয়ে প্রচার চালাতে দেখা যাচ্ছে না।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাকিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুদুল হাসান বলেন, গণভোটের প্রচারে এখনো দুর্বলতা আছে, এটা অস্বীকার করা যাবে না। এ বিষয়ে সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম মোরশেদ বলেন, ভোটের প্রচার শুরু হলে গণভোটের প্রচারও জোরাল হবে। তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রের সংস্কারের জন্য গণভোটে অংশ নিয়ে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার কোন বিকল্প নেই।

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ি গণভোটের প্রচারনা শুরু করেছি। কয়েকদিনের মধ্যে সকল শ্রেণি পেশার মানুষদের সম্পৃক্ত করে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হবে।

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল চারটায় রাজৈর উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজৈর ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন শেখ মনায়েম জাভেদ সারজিল, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ, মাদারীপুর র‍্যাব–৮ এর ডিএডি আবুল হোসেন, জেলা এনএসআইয়ের উপপরিচালক জিল্লুর রহমান।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ নেওয়াজ শিশির, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীম আখতার, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সরকার, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ধ্রুব মন্ডল, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম, রাজৈর থানার তদন্ত কর্মকর্তা নুরুল আমিন এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজুল হক।

মতবিনিময় সভায় আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ভোটকেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বাদশা ফয়সাল। সভায় প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানান, আগামী ২০২৬ সালের গণভোটকে সামনে রেখে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সরাইল উপজেলায় প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে সরাইল উপজেলার নির্বাহী অফিসার আবুবকর সরকার লিফলেট বিতরণ করেন।

সরাইল বাজার ও আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তিনি দোকানপাট, শপিং মল, পথচারী ও সাধারণ মানুষের মাঝে সরকার ঘোষিত লিফলেট বিতরণ করেন।

লিফলেটে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

লিফলেট বিতরণকালে ইউএনও আবুবকর সরকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং গণভোটে অংশগ্রহণের জন্য সকলকে উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সরাসরি তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পায়। গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। এজন্য ভোটারদের নির্ধারিত দিনে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বলেন, প্রশাসনের এমন উদ্যোগ ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, সরকার ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে দেশব্যাপী ভোটারদের সচেতন করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রতিনিধি, বোরহানউদ্দিন (ভোলা) জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় ও গণভোট নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসনের হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ডা. শামীম রহমান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে ডা. শামীম রহমান বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে সকল রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করলে একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।”

তিনি আরও বলেন, প্রশাসন সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নির্বাচন পরিচালনায় বদ্ধপরিকর এবং যেকোনো ধরনের অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করা হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর প্রতিনিধি মো. আকবর হাওলাদার, ভোলা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মো. ফজলুল করিম, বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সরোয়ার আলম খানসহ ভোলা-২ আসনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, পেশাজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি।

সভায় বক্তারা আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং নির্বাচনি আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন' বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রঞ্জিত চন্দ্র দাস, কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ মণ্ডল, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার শাহা, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন