মৌলভীবাজারে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করায় গত ২০ মাসে জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৮ জন সহকারী শিক্ষক চাকরিচ্যুত হয়েছেন। এর পাশাপাশি আরও ৩৬ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কর্মস্থল ত্যাগ ও অসদাচরণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। এতে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের আগস্ট মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত সাত উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে কর্মরত ৪৮ জন সহকারী শিক্ষককে চাকরি ছেড়ে পলায়নের অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরিচ্যুতদের বেশিরভাগই ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে আর কর্মস্থলে যোগদান করেননি। বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলায় মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৬১৮টি। এরমধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ হাজার ৫২টি এবং বেসরকারি ৫৬৬টি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ৭৭৬ জন। তবে ২৭৬টি বিদ্যালয়ে এখনো প্রধান শিক্ষক শূন্য। সহকারী শিক্ষক মঞ্জুরকৃত পদ ৫ হাজার ৩৭৯টি হলেও কর্মরত আছেন ৫ হাজার ১৫৬ জন। শূন্য রয়েছে ২২৩টি পদ।
এমনিতেই শিক্ষক সংকট থাকা অবস্থায় চাকরিচ্যুতির কারণে শিক্ষার পরিবেশ আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার বালিকা সরকারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শেখ সায়মা আজিজ, কাউয়ারগলা সরকারি বিদ্যালয়ের সমরজিৎ স্বর্ণকার, সতিঝিরগাঁও সরকারি বিদ্যালয়ের নোভা নাওয়ার, কুলাউড়া উপজেলার মাইজগাঁও সরকারি বিদ্যালয়ের ইসরাত জেরিন, রাজনগরের চাটুরা সরকারি বিদ্যালয়ের কাবেরী রানী দেব, সদর উপজেলার সদর মডেল বিদ্যালয়ের তাহমিদা ইসলাম এবং আগনসি বিদ্যালয়ের শ্যামলী খানম ছুটি নিয়ে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। ফলে এসব বিদ্যালয় পড়েছে চরম সংকটে।
মাইজগাঁও সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌস খান জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসরাত জেরিন ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অসুস্থতার কথা বলে এক মাসের ছুটি নেন। এরপর আর কাজে যোগ দেননি। পরে জানতে পারি তিনি বিদেশে স্থায়ীভাবে চলে গেছেন। এখন একজন শিক্ষক কম নিয়েই আমাদের পাঠদান চালাতে হচ্ছে।
একইভাবে পতনঊষার বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা খানম বলেন, সহকারী শিক্ষক শেখ সায়মা আজিজ কোনো অনুমতি ছাড়াই বিদেশে চলে গেছেন। শুনেছি তিনি যুক্তরাজ্যে আছেন। এখনও তার বদলি শিক্ষক দেওয়া হয়নি ফলে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফিউল আলম বলেন, আমি ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর এ জেলায় যোগদান করি। এরআগে প্রায় এক বছরে ১৯ জন সহকারী শিক্ষককে অনুপস্থিতির কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। আমি যোগদানের পর গত ৮ মাসে আরও ২৯ জনকে চাকরিচ্যুত করেছি। অর্থাৎ মোট ৪৮ জন শিক্ষক চাকরিচ্যুত হয়েছেন। এর বেশিরভাগই বিদেশে চলে গেছেন। তারা আর চাকরিতে ফিরতে পারবেন না। পাশাপাশি আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে, তাদের বিরুদ্ধেও শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

