সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কাজলসার ইউনিয়নের আটগ্রাম বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্বাধীনতার পর থেকেই ওই স্থানে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও এই দাবি বাস্তবায়ন হয়নি । এতে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
জানা গেছে, সুরমা নদীর ওই স্থান দিয়ে প্রতিদিন জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। কানাইঘাট উপজেলার কাড়াবাল্লা, বড়চাতল, কান্দি, দনা ও খাসিয়াপুঞ্জিসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে জকিগঞ্জে আসতে হয়। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে কানাইঘাটের সঙ্গে এসব এলাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগও গড়ে ওঠেনি। অন্যদিকে জকিগঞ্জের চারিগ্রাম, মরিচা, জালালাবাদ, নালুহাটি ও রায়গ্রামসহ প্রায় ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের মানুষ এই পথ ব্যবহার করে কানাইঘাটের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।
স্থানীয়রা জানান, কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় উৎপাদিত তাজা সবজি, ফল, পানসহ বিভিন্ন পণ্য জকিগঞ্জের ব্যবসায়ীরা এই পথ দিয়ে সংগ্রহ করেন। কিন্তু সেতু না থাকায় পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় দুটোই বেড়ে যায়। শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করে নদী পারাপার করেন। তবে বর্ষাকালে নদীতে পানি বেড়ে গেলে নৌকাই হয়ে ওঠে পারাপারের একমাত্র মাধ্যম। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর আটগ্রামের সুরমা নদীর ওই স্থান পরিদর্শনকালে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাদিকুর রহমান বলেন, এই স্থানে একটি সেতু না থাকায় পুলিশ ও প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ব্যাহত হয়। ফলে কানাইঘাট সীমান্তবর্তী দনা ও খাসিয়াপুঞ্জি এলাকা চোরাকারবারিদের জন্য নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এই পথে চিনি, গরু ও মাদকদ্রব্যসহ বিভিন্ন পণ্য অবৈধভাবে আনা-নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে প্রবেশের সময় বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকও এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হন।
এ বিষয়ে খলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মরিচা গ্রামের বাসিন্দা সাইফুদ্দৌলাহ মান্না বলেন, জনগণের স্বার্থে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। ঠিক কী কারণে এটি হচ্ছে না, তা সুস্পষ্টভাবে বলতে পারছি না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কোনো কার্যক্রম চলছে কি না, তা জানি না। এ বিষয়ে আমাদের কোনো পরিকল্পনাও নেই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

