জগন্নাথপুরে প্রবাসীকে উত্তরাধিকার সনদ না দিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যানের টালবাহানার অভিযোগ

জগন্নাথপুরে প্রবাসীকে উত্তরাধিকার সনদ না দিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যানের টালবাহানার অভিযোগ
শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক নাগরিককে উত্তরাধিকার সনদ না দিয়ে টালবাহানার অভিযোগ উঠেছে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। উপজেলার ৭ নম্বর সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ এমদাদ মিয়ার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সৈয়দপুর হাড়িকোনা গ্রামের মৃত শফিক মিয়ার ছেলে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মোহাম্মদ লিপু মিয়া (৫১) তার পারিবারিক উত্তরাধিকার সনদের জন্য কিছুদিন আগে ইউপিতে আবেদন করেন। তারা ছয় ভাই ও ছয় বোন দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। ২০০০ সালে তাদের বাবা শফিক মিয়া মৃত্যুবরণ করার পর ভাই-বোনদের নামে ওয়ারিশ সনদ নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।

প্রবাসী লিপু মিয়া সনদটি সংগ্রহের জন্য তার চাচাতো ভাই রেজুওয়ান কোরেশীকে প্রতিনিধি হিসেবে প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ এমদাদ মিয়ার কাছে পাঠান। কিন্তু প্যানেল চেয়ারম্যান বিভিন্ন অজুহাতে সনদ প্রদান না করে তাকে ঘোরাতে থাকেন এবং অনর্থক সময়ক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

ভুক্তভোগী প্রবাসী মোহাম্মদ লিপু মিয়া যুক্তরাজ্য থেকে জানান, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকলেও দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের ন্যায্য অধিকার হিসেবে ওয়ারিশান সনদ নেওয়ার জন্য প্রতিনিধির মাধ্যমে ইউপিতে যোগাযোগ করা হলে প্যানেল চেয়ারম্যান অন্যায়ভাবে টালবাহানা শুরু করেন। বাধ্য হয়ে আমি সুবিচারের আশায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছি।’

লিপু মিয়ার প্রতিনিধি ও চাচাতো ভাই রেজুওয়ান কোরেশী বলেন, ‘আমি প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নিয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ এমদাদ মিয়ার কাছে একাধিকবার গিয়েছি। তিনি সঠিক কোনো কারণ না দেখিয়ে দিনের পর দিন আমাকে ঘোরাচ্ছেন এবং সনদ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে টালবাহানা করছেন। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া আমরা এই সনদ পাচ্ছি না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৭ নম্বর সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ এমদাদ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, টালবাহানার বিষয়টি সত্য নয়। ওয়ারিশান সনদ একটি স্পর্শকাতর বিষয়। প্রবাসী পরিবারের ওয়ারিশদের সংখ্যা, পরিচয় ও কাগজপত্র সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করার পরই সনদ ইস্যু করতে হয়। যাচাই প্রক্রিয়া চলায় কিছুটা সময় লাগছে, নিয়ম অনুযায়ী সব ঠিক থাকলে সনদ দিয়ে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ইউএনও মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, প্রবাসী লিপু মিয়ার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অনর্থক হয়রানির প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দ্রুত সনদপ্রাপ্তির ব্যবস্থা করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন