চোরাচালান সিন্ডিকেটে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট-২ আসনের এমপি তাহসিনা রুশদীর লুনা। বুধবার বিকেলে উপজেলার মানসী রেস্তোরাঁ সংলগ্ন মাঠে বালক ও বালিকা সমাপনী খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় মাদক, চোরাচালান ও বিভিন্ন অপরাধ দমনে দেশব্যাপী জোরালো অভিযানের নির্দেশনা দেন। অথচ ওসমানীনগরে আওয়ামী লীগ নেতার বসত বাড়ি থেকে কোটি টাকার চোরাই জিরা উদ্ধারের পরও এখন পর্যন্ত বাড়ির মালিক ছাড়া সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হয়নি।
তিনি ইউএনও-ওসিকে পাশে রেখে প্রশ্ন করেন, কীভাবে এত বড় অবৈধ কারবার দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়েছে? সীমান্ত পেরিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা কীভাবে একটি বসতবাড়িতে পৌঁছালো? কারা ছিল এই চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রক? এসব বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? একই সঙ্গে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে জড়িত সবার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন তিনি।
৫ মে সন্ধ্যায় উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুল হামিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৬০৩ বস্তা ভারতীয় জিরা জব্দ করে পুলিশ। জব্দকৃত জিরার মোট ওজন ১৮ হাজার ৯০ কেজি এবং বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় এলাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এত বড় চালান কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সীমান্ত থেকে পণ্য আনা, গুদামজাত, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের পেছনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রভাবশালী মহলের সমন্বয়ে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

