সিলেট নগরের রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি বাবুল মিয়াকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মঙ্গলবার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মোরসালিন বলেন, ‘বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’
গত ১২ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে সিলেট নগরের রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা ‘নিকুঞ্জ ভিলা’য় তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—বাসার মালিক ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধারের অভিযান চালানো হয়। পরে ১৩ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে বাবুলের দেখানো স্থান থেকে ছোরাটি উদ্ধার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ জানিয়েছিল, গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পূর্বপরিচিত হওয়ায় ঘটনার দিন বাবুল ওই বাড়িতে যান। দরজায় নক করলে তাহমিনা দরজা খুলে তাঁকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে একটি কক্ষে গিয়ে বাবুল তাহমিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। এতে তাহমিনা অমত প্রকাশ করলে তাঁদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল তাহমিনাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে পুলিশ দাবি করে।
এ সময় সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাঁর সঙ্গে বাবুলের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
এরপর বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে রায়নগর এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে যান। পরে পুলিশের বিশেষ টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে বলে পুলিশ জানায়।
হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর, ১৪ আগস্ট রাতে নিহত দম্পতির প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। তবে মামলার এজাহারে বাবুল মিয়ার নাম ছিল না।
পরবর্তীতে ১৬ আগস্ট সকালে বাবুল মিয়াকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
এরপর ২০ আগস্ট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বাবুল মিয়া। সেখানে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়। তাঁর জবানবন্দি অনুযায়ী, চুরি করতে ওই বাসায় গিয়েছিলেন তিনি। চুরি করার সময় তাঁকে দেখে ফেলায় একে একে তিনজনকে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পিবিআই।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাবুল মিয়ার দেওয়া বিভিন্ন তথ্য যাচাই এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, থাকলে তাদের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

