হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার এএসআই অতনু বণিকের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়েছে। একদিনের ব্যবধানে একই থানার দুজন এএসআইয়ের ঘুষ সংক্রান্ত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে এএসআই অতনু বণিকের সঙ্গে এক ব্যক্তির কথোপকথন এবং অর্থ লেনদেনের এক দৃশ্য দেখা যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। ভিডিওটিতে তাদের মধ্যে কিছু কথপোকথনও স্পষ্ট শোনা যায়। তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, সুনির্দিষ্ট ধারণের সময়কাল এবং সেখানে হস্তান্তর করা অর্থের প্রকৃতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, অতনু বণিকের বিরুদ্ধে এর আগেও মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি একটি মামলার তদন্তে গিয়ে এক নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছিল বলেও তারা দাবি করেছেন।
নতুন করে ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুনারুঘাটের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এএসআই অতনু বণিক সাধারণ মানুষকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও দুর্ব্যবহার করে অর্থ আদায় করতেন। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা ও প্রেক্ষাপট নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
এর একদিন আগেই চুনারুঘাট থানার অপর সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের একটি ভিডিও একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ঘুষ গ্রহণ সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়। পরবর্তীতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাকেই থানা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পূর্বের সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই থানার অপর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একই ধরনের গুরুতর অভিযোগের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় চুনারুঘাট থানার অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক নজরদারি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে সচেতন মহলে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
ভিডিওর বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এএসআই অতনু বণিকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকেও পাওয়া যায়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

