সুনামগঞ্জে হোটেল ও রেস্তোরাঁ সেক্টরে সরকার ঘোষিত সর্বনিম্ন মজুরি বাস্তবায়ন, শ্রম আইন কার্যকর করা এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টায় শহরের রায়পাড়াস্থ কার্যালয় থেকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান স্মারকলিপি গ্রহণ করেন। পরে শ্রমিকরা আলফাত উদ্দিন চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
জেলা হোটেল রেষ্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুরঞ্জিত দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক টিটু দাসের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন: বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির সভাপতি সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনির মিয়া, হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারী শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক জিয়াউর রহমান। এ ছাড়া সংগঠনটির সদস্য লিটন দাস, জিষু পালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক নামমাত্র মজুরিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ২০২৩ সালের সর্বনিম্ন মজুরির গেজেট এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের বিধান থাকলেও মালিকপক্ষ ১২-১৩ ঘণ্টা কাজ করাচ্ছে। এতে ঢাকার স্টার কাবাবসহ বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং রংপুরে নিহত শ্রমিক শাওনের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।
মূল দাবিগুলো: ১. সরকার ঘোষিত সর্বনিম্ন মজুরি বাস্তবায়ন। ২. শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিস বই ও ৮ ঘণ্টা কর্মদিবস নিশ্চিতকরণ। ৩. আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ। ৪. কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের নিয়মিত তদারকি ও অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। ৫. শ্রমিক ও নেতাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার। ৬. নিহত শ্রমিক শাওন হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণ প্রদান।
দ্রুত দাবি না মানলে দেশজুড়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

