আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

১২ লাখ টাকা দিয়ে লিবিয়া গিয়ে নিখোঁজ জগন্নাথপুরের ইজাজুল

উপজেলা প্রতিনিধি, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ)

১২ লাখ টাকা দিয়ে লিবিয়া গিয়ে নিখোঁজ জগন্নাথপুরের ইজাজুল

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া (লম্বাহাটি) গ্রামে এখন শুধুই শোকের মাতম। পরিবারের অভাব দূর করার রঙিন স্বপ্ন নিয়ে গত ২২ জানুয়ারি ঘর ছেড়েছিলেন ইজাজুল হক মনি (২৪)। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন এক অজানা আর্তনাদে পরিণত হয়েছে। গত ২১ মার্চ রাতে সমুদ্রপথে ইউরোপের উদ্দেশ্যে ‘গেইমে’ ওঠার পর থেকে আদরের ছোট ছেলের আর কোনো হদিস পাচ্ছে না পরিবার।

বিজ্ঞাপন

৫ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে সবার ছোট ইজাজুলের নিখোঁজ হওয়ার খবরে তার মা ফিরোজা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরলেই তিনি আকাশ-বাতাস ভারী করে চিৎকার করে বলছেন, আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই, আমার কলিজার টুকরোরে আমার বুকে ফিরাইয়া দাও।

ইজাজুলের নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যে উঠে এসেছে মানবপাচারের এক নির্মম চিত্র। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিলেটের ওরিয়েন্টাল মার্কেটের ব্যবসা গুটিয়ে ১২ লাখ টাকা দালালের হাতে তুলে দিয়ে লিবিয়ার পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন ইজাজুল। ছাতক উপজেলার শক্তিরগাঁও গ্রামের দালাল দুলালের মাধ্যমে তাকে লিবিয়া পাঠানো হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় বিভীষিকা।

ইজাজুলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে বোন জামাই নজরুল ইসলাম বলেন, গত রোববার সকালে পর্তুগাল থেকে এক ব্যক্তি আমাকে ফোন করে নিজেকে দালাল দুলালের ভাই পরিচয় দেয়। সে ফোনে জানায় যে, তারা বাড়িতে ‘মানুষ’ নিয়ে আসবে। এর বাইরে তারা আর কোনো পরিষ্কার তথ্য দিচ্ছে না। ইজাজুলের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে দালালের ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি, প্রশাসনের কাছে আমাদের জোরালো দাবি যেন আমার শ্যালককে ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কান্নায় ভেঙে পড়ে ইজাজুলের বড় বোন জুলেফা বেগম বলেন, আমার ভাইটা পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে নিজের ব্যবসা বিক্রি করে দালালের হাতে টাকা তুলে দিয়েছিল। দালাল দুলাল তাকে লিবিয়া নিয়ে গিয়ে আটকে রেখেছিল। সেখানে তাকে খেতে দেওয়া হতো না, দিনের পর দিন মারধর করা হতো। ফোনে সে আমাদের কাছে কান্নাকাটি করত। শেষবার বলেছিল সে নৌকায় উঠছে, এরপর থেকে আর কোনো খবর নেই। আমরা এখন কী নিয়ে বাঁচব? আমাদের কলিজার টুকরোকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন।

ইজাজুলের সাথে একই বন্দিশালায় থাকা তার চাচাতো ভাই রাজেন লিবিয়া থেকে জানিয়েছেন, গেইমে পাঠানোর আগে তাদের ওপর অমানুসিক নির্যাতন চালানো হতো। প্রায় এক মাস কোনো খাবার দেওয়া হয়নি তাদের। ইজাজুল মাঝেমধ্যে অত্যন্ত কাতর গলায় বাড়িতে ভয়েস মেসেজ পাঠাতেন, যেখানে ফুটে উঠত তার ওপর হওয়া পাশবিক অত্যাচারের কথা। গত ২১ মার্চ শেষবারের মতো একটি ভয়েস মেসেজ দিয়ে জানিয়েছিলেন তিনি গেইমে উঠছেন, তারপর থেকেই সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

সন্তানের অপেক্ষায় মা ফিরোজা বেগমের আহাজারিতে পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে আছে। ইজাজুলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন