আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পলাতক জীবন কেটেছে অনেকের, জেল খেটেছেন ১৫-২০ বার

কামরুল হাসান, হবিগঞ্জ

পলাতক জীবন কেটেছে অনেকের, জেল খেটেছেন ১৫-২০ বার

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের দুঃশাসনে হবিগঞ্জ জেলায় বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় জর্জরিত করা হয়েছে। এ সময়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নামে ছয় শতাধিক মামলা দেওয়া হয়। এসব মামলায় ১৪ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। মামলার ঘানি টানতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে অনেক পরিবার। অনেককে বছরের পর বছর পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সময়ে হবিগঞ্জে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা গুম-খুনের চেয়েও হামলা-মামলায় বেশি জর্জরিত হয়েছেন। তবে এর মধ্যেও এক যুবদল নেতাকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। অনেককে ধরে নিয়ে গুলি করে পঙ্গু করা হয়। এর মধ্যে আলোচিত ঘটনা বিএনপির জি কে গউছকে জেলখানায় পিঠে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টা চালান যুবলীগ নেতা। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিলে হামলা করে একাধিক নেতাকর্মীকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয় তাদের কার্যালয়।

স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের সূত্রে জানা গেছে, জেলায় বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন, হামলা-মামলায় পেছনে থেকে কলকাঠি নাড়েন সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু জাহির। গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাতে চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুছ আলীকে পুলিশ ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যা করে। তার স্ত্রী শাহানা আক্তার বাদী হয়ে তিন কর্মকর্তাসহ সাত পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যামামলা করেছিলেন। কিন্তু আজও ওই হত্যার বিচার পায়নি তার পরিবার।

২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আল্লামা সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে নবীগঞ্জে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও স্থানীয় সাধারণ জনতা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের লোকজন পিস্তল, শর্টগানসহ দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় মিছিলে হামলা চালায়। হামলায় জামায়াত নেতা শাহ মো. আলাউদ্দিন গুরুতর জখম হন। আহত হন জামায়াত নেতা আহমদ সাকিম, মো. সুবিন, আবু আলা মদুদ প্রমুখ।

একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামী সারা দেশে হরতার পালনের ডাক দিলে জেলা শহরে জামায়াতে ইসলামী পিকেটিং করার সময় পুলিশ পিকেটারদের ধাওয়া করে ব্যাপক মারধর করে।

২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা বিএনপি সমাবেশের আয়োজন করে। সেদিন হবিগঞ্জের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নারকীয় তাণ্ডব চালায় আওয়ামী পুলিশ বাহিনী। জেলা ছাত্রদলের একটি মিছিল সমাবেশের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় পথরোধ করে পুলিশ। শুরু হয় ছাত্রদলের ওপর লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণ। বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে থাকে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন বর্তমান জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ অনেকে।

সেদিন রিংগনের সারা শরীরে পাঁচ শতাধিক গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায়। চিকিৎসার জন্য জেলার কোথাও যেতে পারেননি গ্রেপ্তার আতঙ্কে। অবশেষে মৌলভীবাজার জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সাময়িক চিকিৎসা নিয়ে পরবর্তীকালে ভর্তি হন সিলেট নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালায়। টের পেয়ে চলে যান ঢাকায়; সেখানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন।

প্রতিপক্ষকে দুর্বল করতে নিপীড়ন

হবিগঞ্জে বিএনপিকে দুর্বল করতে পলাতক সাবেক এমপি আবু জাহির মরিয়া হয়ে ওঠেন। এ জন্য তিনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন পুলিশ ও প্রশাসনকে। জেলা বিএনপির প্রতিটি কর্মসূচিতে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হতো। বিএনপির ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলত পুলিশ। মিছিলে পথরোধ করে দাঁড়াত। কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ থেকে শুরু করে গুলি, টিয়ালশেল ছোড়া হতো। তারপর দেওয়া হতো পুলিশ অ্যাসল্টের মিথ্যা মামলা।

শুধু মামলা দিয়েই ঘরে বসে থাকেনি পুলিশ। নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করা হতো। আসামি না পেয়ে পরিবারের লোকজনকে হুমকি দিতে আসত আওয়ামী এজেন্ডাধারী পুলিশ সদস্যরা। শুধু তা-ই নয়, কথার অবাধ্য হলেই এমপি জাহিরের নির্দেশে সাধারণ মানুষকেও হয়রানি করা হতো।

২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পদযাত্রায় পুলিশের লাঠিচার্জ ও গুলিতে দুই শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত হন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম আউয়াল। তার শরীরে ৭০০ থেকে ৮০০টি রাবার বুলেট লাগে। এর মধ্যে পায়ে ছিল পিস্তলের গুলি। চোখে গুলি লাগায় তিনবার অপারেশন হয়েছে তার। ফলে ডান চোখের ৮০ ভাগ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানালেন চিকিৎসক। চতুর্থবার চোখে অপারেশন করান ঢাকায়। এখনো তিন শতাধিক গুলি তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রয়ে গেছে। চিকিৎসায় এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। প্রতি মাসেই ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা চিকিৎসায় খরচ হচ্ছে।

সেদিন পুলিশ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের জন্য জি কে গউছের বাসাসহ আশপাশে ব্যাপক তল্লাশির নামে এলাকাবাসীকে হেনস্তা করে। দলের নেতাকর্মীরা গ্রেপ্তারের ভয়ে হাসপাতালে না গিয়ে গোপনে অন্যান্য জেলা-উপজেলায় চিকিৎসা নেন।

জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, ‘হাসিনার দুঃশাসনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলা-মামলার শিকার হয়েছি বহুবার। তবে ২০২১ সালের ২২ ডিসেম্বরের কথা মনে পড়লে এখনো বুক কেঁপে ওঠে। মনে করেছিলাম আর বাঁচব না। সেদিন ৬০০-৭০০টি রাবার বুলেট লাগে আমার শরীরে। আজও গুলির যন্ত্রণায় দিন কাটছে। এখনো চিকিৎসাধীন আছি; আরো দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিলাম, আজও বিচার পাইনি।’

জেলা যুবদলের আহ্বায়ক জালাল আহমেদ বলেন, ‘৪৭টি মামলার আসামি হয়েছি, ১০ বার গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছি। আমরা অনেকেই জেলা শহরে পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় বাস করি। এমনও হয়েছে, জেলে থাকার কারণে আমার স্ত্রী নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় বাসার মালিক বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা বলতেন। আমি জেলে থাকায় বাসায় দৈনন্দিন খরচের টাকা না থাকায় এমনও দিন গেছে কিছুই রান্না করা যায়নি। জেল থেকে বের হতে পারলেও মাসের পর মাস পরিবার-পরিজন ছেড়ে পালিয়ে বেড়িয়েছি। পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় গ্রেপ্তারের পর আমাকে ডাণ্ডাবেড়ি পরানো হয়েছিল।’

নেতাদের বাড়িতে হামলা ও দলীয় অফিসে আগুন

হাসিনার শাসনামলে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে এবং জেলা জামায়াত কার্যালয়ে দুবার আগুন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ২০১৭ সালের পর থেকে আর অফিসই চালু করতে পারেনি জামায়াত। নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক ব্যবসায় ব্যাপকভাবে ক্ষতি করেছে আওয়ামী লীগের লোকজন ও পুলিশ। কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) জি কে গউছের হবিগঞ্জস্থ বাসভবনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুর করেছে। জামায়াতে ইসলামীর মালিকানাধীন ‘হবিগঞ্জ হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেড’-এ ২০১১ সালে আওয়ামী লীগের লোকজন চাঁদা দাবি করে ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করেছিল। হবিগঞ্জ বিসিকে প্রতিষ্ঠিত ‘কাশফুল’ নামে ফুড প্রডাক্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে ব্যবসার ব্যাপক ক্ষতি করেছে পুলিশ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ১৬ জন, আহত অসংখ্য

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকারি হিসেবে হবিগঞ্জে শহীদ ১৫ জন দেখানো হলেও বাস্তবে ১৬ জনের নাম সবার জানা। এর মধ্যে হবিগঞ্জ জেলার ঘটনায় ১১ জন; বাকিরা রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শরিক হয়ে শহীদ হয়েছেন। তন্মধ্যে ঢাকায় তিনজন, কুমিল্লায় একজন, নারায়ণগঞ্জে একজন, বানিয়াচংয়ে ৯ জন, জেলা শহরে দুজন শহীদ হন।

গত বছরের ২ আগস্ট পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছাত্র-জনতার আন্দোলনে থাকা মোশতাক মিয়া নামে এক বিদ্যুৎশ্রমিক। তিনি সিলেট জেলার বাসিন্দা। ৪ আগস্ট শহীদ হন যুবদল নেতা রিপন শীল, ৫ আগস্ট বানিয়াচং থানার সামনে পুলিশের গুলিতে ৯ জন শহীদ হন। বানিয়াচংয়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন আলিম প্রথম বর্ষের মাদরাসাছাত্র আব্দুল হালিম রবিন। ৫ আগস্ট থানার সামনে তার ডান পায়ে বুলেটের আঘাত লাগে। দীর্ঘ আট মাস তার পায়ে রিং বসানো ছিল, এখন রিং খোলা হলে হাঁটাচলা করতে পারেননি রবিন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাঁটতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে।

জেলা শহরে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরেন পৌর বিএনপি নেতা সালেহ আহমদ। পুলিশের একটি বুলেট তার কোমরে ঢুকে মেরুদণ্ডের হাড় ভেদ করে বেরিয়েছে। সিলেটের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে আইসিইউতে ছিলেন ২৬ দিন। কিছুদিন লাইফ সাপোর্টেও ছিলেন। এখন পর্যন্ত তার বুলেট বের করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অপারেশনে জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। এই চিকিৎসায় এ পর্যন্ত ২৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে তার। চিকিৎসা খরচ চালাতে গিয়ে গরুর ফার্ম বিক্রি করতে হয়েছে তার। এ ছাড়া অসংখ্য নেতাকর্মী জুলাই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।

শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের ভাষ্য

শেখ হাসিনার দুঃশাসনে জেলার চিত্র বলতে গিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) হবিগঞ্জ পৌরসভার তিনবারের সাবেক মেয়র জি কে গউছ বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতিতে ৪১ বছর পূর্ণ হয়েছে আমার। শতাধিক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলায় আসামি হয়েছি। এক হাজার ৫১৭ দিন দেশের বিভিন্ন কারাগারে রাত-দিন কেটেছে আমার। সবচেয়ে বেশি কষ্টের বিষয় হলো সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ১২ বছর পর ২০১৪ সালে চতুর্থ সম্পূরক চার্জশিটে আমাকে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুটি মামলায় যুক্ত করা হয়। অথচ কিবরিয়া হত্যার সময় আমি আমার বাবার সঙ্গে পবিত্র মক্কায় হজে ছিলাম।

একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত আমাকে কারাগারে পাঠায়।’

জি কে গউছ বলেন, সুনামগঞ্জে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় বোমা হামলার ১২ বছর পর আমি কারাগারে থাকাবস্থায় আমাকে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা দুটি মামলায় ২০১৫ সালে আটক দেখানো হয়। এসব মামলায় হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকাবস্থায় ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে নিজ কক্ষে যাওয়ার সময় হত্যার উদ্দেশ্যে আমার পিঠে ছুরিকাঘাত করে যুবলীগ নেতা ইলিয়াছ। আমাকে বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমার বাড়িতে আওয়ামী লীগের লোকজন বারবার হামলা করেছে। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি প্রচারে সদর উপজেলার পাইকপাড়া ও শায়েস্তাগঞ্জ সদরে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা আমার ওপর হামলা করে। তবুও রাজনীতির মাঠ ছাড়িনি, আজও মাঠে আছি।

হবিগঞ্জ জেলা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) হাজী নুরুল ইসলাম বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর চারটি হত্যা মামলাসহ ৯৫টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় আসামি হয়েছেন ১২ হাজার। চারটি হত্যা মামলা ছাড়া সবগুলো ইতোমধ্যে খালাস এবং প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমেদ বলেন, ‘শেখ হাসিনার দুঃশাসনের ১৫ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছেন আমাদের নেতাকর্মীরা। জেলা জামায়াত কার্যালয়ে দুবার আগুন দেয় আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা। সর্বশেষ ২০১৭ সালে আমাদের অফিস জ্বালিয়ে দেওয়ার পর আর আমরা অফিস করতে পারিনি। ৫০৮টি মামলায় দুই হাজার আসামি আমাদের নেতাকর্মী। বর্তমানে ১২টি মামলা ছাড়া সবগুলোই খালাস হয়েছে।’

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক সেলিম বলেন, ‘জেলা বিএনপির মধ্যে আমি সবচেয়ে বেশি মামলার আসামি; তবুও জি কে গউছ যেহেতু কেন্দ্রীয় নেতা—তিনিই বেশিদিন জেল খেটেছেন, বেশি নির্যাতিত হয়েছেন। তার পরই আমি বেশি কারাবরণ করেছি, নির্যাতিত হয়েছি।

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির কাজী মাওলানা মুখলিছুর রহমান বলেন, ‘হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমরা সব সময়ই আন্দোলন করেছি। এ জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে তিনবার গ্রেপ্তার হয়ে তিন মাস জেল খেটেছি। আমরা চাচ্ছি এখন দেশে ইনসাফভিত্তিক শাসনব্যবস্থা কায়েম হোক। এ জন্য জামায়াতে ইসলামী সর্বাত্মক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন