হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর হোটেলে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লাহ গত ১৬ মার্চ হবিগঞ্জ দ্রুত বিচার আদালতে বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম আবুলকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নামে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন।
এরআগে গত শনিবার বিকেলে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী মাসুম বিল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সামনে একটি টিনশেড ঘরে ‘মাসুম বিল্লাহ হোটেল’ নামে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। কিন্তু প্রায় সময়ই মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম আবুল (৪২) এবং তার সহযোগীরা ব্যবসায়ীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
মাসুম বিল্লাহ জানান, তিনি চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে। এমনকি ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি তিনি স্থানীয় মুরুব্বীয়ানদের অবহিত করলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রথম ঘটনায় নির্ধারিত দিনে মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তার পথরোধ করে। এ সময় বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম আবুল তার হাতে থাকা একটি ধারালো অস্ত্র (চাকু) মাসুম বিল্লাহর গলার কাছে ধরে হুমকি দিয়ে বলেন, ব্যবসা করতে চাইলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে, না হলে তোমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হবে। এভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের পর তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে হাকডাক দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং দেশীয় অস্ত্রসহ ব্যবসায়ীর হোটেলে হামলা চালায়। এ সময় প্রধান অভিযুক্তের নির্দেশে অন্যান্য আসামিরা হাতুড়ি, শাবলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে হোটেলটির বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করে।
হামলার সময় হোটেলের টিনশেড ঘর, পেছনের পাকা রান্নাঘরের চালা, দরজা-জানালা, রান্নার চুলাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভেঙে ফেলা হয়। এতে প্রায় ২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জন ব্যক্তি হোটেলের সামনে থাকা পানির ট্যাংক ভাঙচুর করে, যার ক্ষতির প্রায় ১৫ হাজার টাকা।
ঘটনার সময় অভিযুক্তদের তাণ্ডবে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারীরা হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে আরো হুমকি দেয় যে, প্রতিবাদ করলে ভুক্তভোগীকে প্রাণে হত্যা করা হবে।
এ বিষয়ে মাসুম বিল্লাহ বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে বৈধভাবে ব্যব আসছি। ওই বিএনপি নেতা আমার কাছে প্রায় সময়ই চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। আমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার ব্যবসা ধ্বংস করে দিয়েছে। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এ বিষয়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি সভাপতি ও বিএনপির নেতা শফিকুল ইসলাম আবুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা এবং বানোয়াট। এমনকি সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির কোন সদস্য এ কাজের সাথে জড়িত নহে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

