হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় বোনের দেবরকে ফাঁসাতে গৃহবধূ নাজমা আক্তারকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল গনি নাজমার সতীনের ভাই। তার সাথে বোনের দেবর তোরাব আলী ও আত্মীয় সেলিম মিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিলো। এ নিয়ে মামলা চলছিল। মারামারির একটি মামলায় জেল খাটার প্রতিশোধ নিতে তিনি প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন। পাশাপাশি নিজের বোনের সংসারে সতীনকে সরানোর উদ্দেশ্য ছিলো তার।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর উপজেলার কাজিহাটা গ্রামে বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড়া উদ্ধার করা হয় জসিম মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাজমা আক্তারের লাশ। পরে নিহতের মেয়ে নার্গিস আক্তার চাচা তোরাব আলীসহ ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, মামলার আসামি নির্ধারণসহ সব কিছু পরিচালনা করছিলেন আব্দুল গনি।
পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর রাজিব কুমার দাশ জানান, মামলার ৯ নম্বর আসামি আব্দুন নূরের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারের পর মামলার মোড় ঘুরে যায়।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নূর জানান, তিনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেখে ফেলেছিলেন বলেই তাকে আসামি করা হয়। পরে অধিকতর তদন্তে আব্দুল গনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিছুদিন কারাগারে থাকার পর তার পক্ষ নেন মামলার বাদী নার্গিস আক্তার। তিনি আদালত থেকে জামিন করান সৎ মামা আব্দুল গনিকে।
তদন্তে আরো জানা যায়, নিহতের মেয়ে নার্গিসের সঙ্গে আব্দুল গনির ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পরে তাদের বিয়ে হয়। বর্তমানে নার্গিস তার শ্বশুর আব্দুল গনির পক্ষ নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
নিহতের ভাই মনির মিয়া দাবি করেন, তার বোনকে হত্যা করে নিরপরাধ লোকজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি এর সঠিক বিচার চান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নানও বলেন, এলাকার নিরীহ মানুষকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জনমনে ধারণা রয়েছে।
পিবিআই জানায়, নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীর ও কাপড় ভেজা পাওয়া যায় এবং গলায় কাটা দাগ ছিল। হত্যার পর লাশ গোসল করানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে, শিগগিরই চার্জশিট দাখিল করা হবে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

